
শেষ আপডেট: 6 January 2020 10:35
এই শেষযাত্রায় সরকারি ভাবে সম্প্রচার করা হয়, কেউ যদি ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে তবে ইরানের প্রতিটি নাগরিক এক মার্কিন ডলার করে দেবেন। ইরানের জনসংখ্যা আট কোটি। ফলে ইরানি জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ঘোষণা করা হয়, যে ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারবে, তাকেই আট কোটি ডলার দেওয়া হবে।
সকালের কড়া ঠান্ডায় পরোয়া করেননি মহিলারাও। সোলেমানির শেষযাত্রায় দলে দলে যোগ দেন তাঁরাও। কালো পোশাকে, পতাকা উঁচিয়ে, তেহরানের রাস্তায় নেমে গলা তোলেন তাঁরাও। অনেকের কোলে ছিল শিশু। এ সবের মাঝেই সোলেমানির জন্য প্রার্থনা করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন খোমেইনি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারিত হয় সোলেমানির শেষযাত্রা। তাতে দেখা যায়, মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে নিহত সোলেমানি ও অন্য পাঁচ সেনা-শহিদের পতাকা মোড়া কফিনের সামনে কাঁদছেন খোমেইনি। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন সোলেমানির ছেলে ইসমাইল কানি, প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি।
শেষযাত্রায় অংশ নেওয়ার আগে ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলে বিবৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হাসান রউহানি বলেন, “আমরা চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আমরা নানা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতাম। পরমাণু জ্বালানি এনরিচমেন্ট করতে পারতাম না। কী পরিমাণে এনরিচড ইউরেনিয়াম আমাদের দেশে রাখা যাবে, তার ওপরেও কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর কোনও কড়াকড়ি মেনে চলতে বাধ্য নয়।”
মার্কিন হামলায় সোলেমানির মৃত্যুর পরে পেন্টাগনের তরফে একটা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, “জেনারেল সোলেমানি বহুদিন ধরে ইরাকে বসবাস করা মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। গত কয়েক মাসে এই এলাকায় সবকটি হামলার দায়ও তাঁর।”
আয়াতুল্লা আলি খোমেইনি পাল্টা সতর্ক করেন আমেরিকাকে। তিনি বলেন “যে শত্রুরা সোলেমানির রক্তে নিজেদের হাত নোংরা করল তাদের বিরুদ্ধে নৃশংস বদলা নেওয়া হবে। সোলেমানির কাজ ও পথ চলা থামবে না। সেই কাজ আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।”