দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোম সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। জি ২০ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শনিবার ভ্যাটিকান সিটি দর্শনে গিয়ে দেখা করেছেন পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মাকরেঁর সঙ্গেও এদিন সাক্ষাৎ হয় মোদীর। বিশ্বের এই সমস্ত তাবর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্যের খাতিরে আলিঙ্গনবদ্ধ হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর এই রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়েও উঠে গেছে প্রশ্ন।
নজিরবিহীনভাবে নরেন্দ্র মোদীর মুখে দেখা যায়নি কোনও মাস্ক। সারা পৃথিবীতে যখন অতিমহামারীর দাপট চলছে, প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনার থাবায়, তখন কেন কীভাবে মাস্ক ছাড়া এমন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন নরেন্দ্র মোদী, প্রশ্ন উঠেছে।
এদিন মোদী যখন ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলিঙ্গনবদ্ধ হচ্ছেন, তখন কিন্তু তাঁদের মুখে মাস্ক ছিল। পোপের মুখে মাস্ক যদিও দেখা যায়নি। বাকি সকলেই মাস্ক পরেছিলেন, শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পরেছিলেন সাদা মাস্ক। বাইডেনের মুখের মাস্ক অবশ্য নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলিঙ্গনের সময় অনেকটা নেমে গিয়েছিল। তবে মোদীর মুখে বা হাতে কোথাও মাস্ক দেখাই যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি মাস্ক না পরেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, নাকি মাস্ক খুলে রেখেছিলেন সাময়িকভাবে? নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর পরিচালিত সরকার দেশবাসীকে সবসময় মাস্ক পরার উপদেশ দিয়েছেন। কোভিড অতিমহামারীর শুরু থেকেই মাস্ক পরতে বলছেন ডাক্তাররাও। এমন পরিস্থিতিতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখেই মাস্ক নেই দেখে স্বভাবতই প্রশ্ন এড়ানো যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায় ভ্যাকসিন সংক্রান্ত আপত্তির কারণে। তখন তৃণমূলের অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র তথা নরেন্দ্র মোদীর অঙ্গুলিহেলনেই অনুমতি দেওয়া হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে। কিন্তু এদিন মাস্ক ছাড়াই রোমে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীকে। যা নিয়েও কম জলঘোলা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত। তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা রাজ্যপালের মুখেও মাস্কের বালাই ছিল না। তখনও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ভ্যাকসিন নেওয়া হয়ে গেলেই কি তাহলে মাস্ক পরার পাট চুকিয়ে দেওয়া যায়? দেশের প্রথম সারির নেতাদের দেখে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকেই।