দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারাগারকে পরিশীলিত ভাষায় বলা হয় সংশোধনাগার। মনে করা হয়, কোনও অপরাধীর কারাবাস হওয়া মানে সেটা কেবল তার শাস্তি নয়, সংশোধনের একটা চেষ্টাও বটে। কারাবাস করার পরে নিজেকে শুধরে সমাজের মূলস্রোতে ফেরত আসার নিদর্শনও কম নেই আশপাশে। কিন্তু এ সবের কিছুই খাটেনি নির্ভয়া কাণ্ডের চার অপরাধীর ক্ষেত্রে। নিজেদের শুধরোনো দূরের কথা, উল্টে তারা জেলে থাকাকালীন ২৩ বার বিধিভঙ্গ করেছে সেখানে। পড়াশোনা শুরু করলেও পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। তিহাড় জেল সূত্রে এমনটাই খবর মিলেছে।
১২ বছর আগে দিল্লির একটি বাসে এক তরুণীকে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে তিহাড় জেলে বন্দি অক্ষয় ঠাকুর সিং, মুকেশ সিং, পবন গুপ্তা এবং বিনয় শর্মা। তাদের ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে দিল্লির আদালত। ফাঁসির সাজা মকুবের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সব ঠিক থাকলে ঠিক এক সপ্তাহ পরেই ফাঁসি হওয়ার কথা তাদের। ইতিমধ্যে এক জন প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে।
এই সময়েই তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, জেলবন্দি অবস্থায় চার অপরাধী যা কাজ করেছে, তাতে তারা প্রায় এক লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা মজুরি পেয়েছে। অক্ষয় আয় করেছে ৬৯ হাজার টাকা, পবন ২৯ হাজার টাকা এবং বিনয় ৩৯ হাজার টাকা আয় করেছে। মুকেশ অবশ্য কোনও কাজ করেনি। কিন্তু আচরণগত ভাবে তারা মোটেও খুব একটা শান্ত ছিল না।কারাগারের নিয়ম ভাঙার জন্য বিনয় শর্মাকে ১১ বার শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অক্ষয় ঠাকুর সিংকে এক বার শাস্তি দেওয়া হয়েছে, মুকেশ ৩ বার আইন ভঙ্গ করেছে এবং পবন গুপ্তা ৮ বার জেলের বিধিভঙ্গ করেছে।
শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে মুকেশ, পবন এবং অক্ষয় দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু পড়াশোনার শেষে পরীক্ষা দিলেও পাশ করতে পারেনি তারা। বিনয়ও ২০১৫ সালে স্নাতক পরীক্ষার জন্যে ভর্তি হলেও তা শেষ করতে পারেনি। ফাঁসির সাজা ঘোষণার পরে তাদের পরিবারের সঙ্গে দু'বার দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে চার আসামিকে। জানা গেছে, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে তারা। গলার মাপ নিতে এলে কেঁদেও ফেলেছে।
অন্যদিকে রবিবারই বস্তা ব্যবহার করে তিহাড় জেলে মহড়া দেওয়া হয়ে গেছে এই চার অপরাধীর ফাঁসির। ফাঁসির জন্য যে দড়িগুলি ব্যবহার করা হবে সেগুলিও পরীক্ষা করা হয়েছে তিহাড় জেলে। প্রত্যেক অপরাধীর যা ওজন, বস্তায় সেই ওজনের পাথর প্রভৃতি পুরে সেই দড়িগুলি পরীক্ষা করে দেখেন জেল কর্তৃপক্ষ।