দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশের জনসংখ্যা (Population) যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী দিনে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। শুক্রবার নাগপুরে বিজয়া দশমীর ভাষণে এমনই বললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, জাতীয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি তৈরি করতে হবে। সেই নীতি মেনে চলতে হবে সবাইকে। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি'-র দাবি তোলে। আরএসএস প্রধান এদিন সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করে বলেন, "আগামী ৫০ বছরের কথা ভেবে জনসংখ্যা নীতি তৈরি করা উচিত। আমাদের হিসাব করতে হবে, আগামী ৩০ বছর বাদে ঠিক কতজন বয়স্ক মানুষকে আমাদের খাওয়াতে হবে।"
এর আগে ২০১৮ সালে আরএসএস প্রধান দাবি করেছিলেন, জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জাতীয় জনসংখ্যা নীতি তৈরি করতে হবে। সংঘের মতে, ওই নীতি কার্যকরী হলে অনুপ্রবেশ আটকানো যাবে। জোর করে ধর্মান্তর ঠেকানো যাবে। সকলে প্রাকৃতিক সম্পদের সমান ভাগ পাবে।
২০১১ সালের জনগণনার তথ্য উল্লেখ করে সংঘ দেখিয়েছে, কীভাবে হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫ সালে আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রতিনিধি সভায় 'হিন্দুদের সংখ্যা কমে যাওয়া' নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৫ সালে সংঘের অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের সভায় একটি প্রস্তাবে বলা হয়, 'দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, আগামী দিনের সম্ভাব্য নানা প্রয়োজনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জনসংখ্যার ভারসাম্যের ওপরে নজর রেখে' জনসংখ্যা নীতির সংশোধন করতে হবে।
ওই সভায় এনআরসি-র পক্ষে সওয়াল করে বলা হয়, অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে বে আইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করছে। এদেশে জমিও কিনছে। সংঘের দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও অসম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘোষণা করেছে।
একইসঙ্গে আরএসএস প্রধান এদিন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, মাদক এবং বিট কয়েনের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ওই তিনটির জন্য দেশবিরোধী কার্যকলাপ প্রশ্রয় পাচ্ছে। তাঁর দাবি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, মাদক ও বিট কয়েনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মোহন ভাগবত বলেন, বিট কয়েনের জন্য অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। কায়েমি স্বার্থেই বিট কয়েন চালু করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য দেশের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়া। পরে তিনি বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যা দেখানো হয়, তার ওপরে কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। করোনা অতিমহামারীর সময় শিশুরাও হাতে মোবাইল ফোন পেয়েছে। তারা এখন মোবাইলে কী ছবি দেখছে কেউ জানে না।