দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউন শ্যুটআউট কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পাঞ্জাবের ওই গ্যাংস্টার দলের শিকড়ের খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাঞ্জাব থেকে এই দলের যোগসূত্র যে বাংলা অবধি বিস্তৃত ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ আরও জোরদার হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোহালি থেকে সুমিত কুমার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই সুমিত কুমারই দালাল মারফৎ নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার ওই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল। সুমিতের থেকে ফ্ল্যাটটি নেয় ভরত কুমার, তাঁর পরিচয়েই ফ্ল্যাটে থাকছিল দুই দুষ্কৃতী জয়পাল সিং ভুল্লার ও যশপ্রীত সিং খাড়ার।
তদন্তকারীরা বলছেন, নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার আবাসনে বি-১৫২ টাওয়ারের যে ফ্ল্যাটে থাকত দুষ্কৃতীরা তার খোঁজ দেয় ভরত কুমার নামে আরও এক দাগি আসামি। এরই সাহায্যে বাংলায় পালিয়ে এসে এই ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তারা। পুলিশ জানতে পেরেছে, এত বড় আবাসনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বন্ধ থাকে। মালিকরা অন্য জায়গায় থাকেন। বেশিরভাগ সময়ে ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া বসিয়ে যান। এজেন্সি মারফৎ ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয়। এভাবেই হয়ত সাপুরজি আবাসনের ফ্ল্যাটের হদিশ পায় গ্যাংস্টাররা। এজেন্সিকে একমাসের ২০ হাজার টাকা ভাড়া দেয় তারা, আর ১১ মাসের চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে ফ্ল্যাট নেয় আবাসনে। ২৩ মে থেকে ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে।
ভরত কুমারকে আবার এই ফ্ল্যাটের হদিশ দিয়েছিল সুমিত যাকে পাঞ্জাব পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সুমিত নিউটাউনের ওই খালি ফ্ল্যাটের সন্ধান পায় কোনও এজেন্সির মাধ্যমে। দুই ব্রোকারের হাত ঘুরে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় সে। প্রথম যোগাযোগ হয় ব্রোকার সৌরভ কুমারের সঙ্গে। সৌরভের থেকে ফোন নম্বর নিয়ে সুশান্ত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করে সুমিত। এই সুশান্তের মাধ্যমেই ভরত কুমারের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। পরে ভরত কুমারের পরিচয়েই ওই ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে জয়পাল ও যশপ্রীত।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রের জাল অনেক দূর ছড়িয়েছে। আজই আবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ফ্ল্যাট থেকে তৃতীয় ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। সে ব্যক্তি ভরত কুমার কিনা তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ জানাচ্ছে, ওই ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে কিছু লোকজনের যাতায়াত ছিল। চলতি মাসেই কেউ বা কারা তাদের ফ্ল্যাটে এসেছিল। তারা কারা সে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।