দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছর ইদের সময় বাড়ি ফিরছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান ঔরঙ্গজেব। রাস্তাতেই তাঁকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। পরে তাঁর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দাদার হত্যার বদলা নিতে তাঁর ভাই বলেছিলেন, তিনিও সেনাতে যোগ দিতে চান। অবশেষে তাই হলো। শুধু একজন নয়, সেনায় যোগ দিলেন ঔরঙ্গজেবের দুই ভাই।
ঔরঙ্গজেবের বাবা মহম্মদ হানিফ জানিয়েছেন, তাঁর অন্য দুই ছেলে মহম্মদ তারিক ও মহম্মদ শাব্বির সেনায় যোগ দিয়েছে। তাঁরা বর্তমানে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। যে দেশের হয়ে দাদা শহিদ হয়েছেন, সেই দেশের কাজেই নিজেদের জীবন দিতে চান দুই ভাই। ট্রেনিং শেষ হলেই তাঁদের পোস্টিং দিয়ে দেওয়া হবে।
গত বছর ১৪ জুনের ঘটনা। বড় ছেলে ইদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছে বলে রাজৌরির মেন্ধারের সালানি গ্রামে অপেক্ষায় ছিলেন বাবা মহম্মদ হানিফ। হানিফ নিজেও জম্মু কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির জওয়ান ছিলেন। কিন্তু রাস্তাতেই জঙ্গিরা তুলে নিয়ে যায় ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের এই তরুণ রাইফেলম্যানকে। পরের দিন তাঁর বুলেটবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায় পুলওয়ামার কালামপোরা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে গুস্সু গ্রামে। সেনাসূত্রে জানা গিয়েছিল, শোপিয়ানের ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে একটা গাড়িতে লিফট নিয়েছিলেন ঔরঙ্গজেব। কিন্তু জঙ্গিরা লক্ষ্য রেখেছিল। আর তাই রাস্তাই সেই গাড়ি থামিয়ে অপহরণ করা হয় তাঁকে। ঔরঙ্গজেবকে মরণোত্তর শৌর্য চক্র দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল।
ঔরঙ্গজেবের হত্যার দু'দিন পরেই একটা ভিডিয়ো প্রকাশ করে জঙ্গিরা। ঔরঙ্গজেবকে গুলি করার কিছুক্ষণ আগে তোলা সেই ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই অবস্থাতেও জঙ্গিদের সামনে স্পষ্ট উত্তর দিচ্ছেন এই তরুণ জওয়ান। তারপরেই হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা সমীর টাইগার তাকে গুলি করে মারে। ছেলের এই ভিডিয়ো দেখে কিন্তু এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেননি হানিফ। বরং বলেছিলেন, যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের খুঁজে না বের করা যায়, তাহলে তিনি নিজেই কালাশনিকভ হাতে নেবেন। দুই ভাই বলেছিলেন, দাদার হত্যার বদলা নিতে সেনায় যোগ দেবেন তাঁরা। এমনকী এই খবর পেয়ে সৌদি আরবে কাজ করা সেই গ্রামেরই ৫০ যুবক ফিরে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, সেনায় যোগ দিতে চান তাঁরা। এক ঔরঙ্গজেবের মৃত্যু জন্ম দিয়েছিল আরও ৫০ ঔরঙ্গজেবকে।