দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার তরুণ ক্রিকেটার এবং তাঁর মায়ের দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এই দু'জন। মুম্বইয়ের ভিরারে ঘটেছে এই ঘটনা।
শনিবার সকাল থেকে বছর বিয়াল্লিশের সঞ্জীবনী চৌগুলে এবং তাঁর ছেলে বিনোদকে (২৫) দেখতে পাচ্ছিলেন না প্রতিবেশীরা। বন্ধ ছিল তাঁদের ফ্ল্যাটের দরজাও। বারবার ডেকে সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে উদ্ধার করে বিনোদ এবং তাঁর মায়ের নিথর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই এই মা-ছেলের মৃত্যুর আসল কারণ কী তা জানা যাবে।
কিন্তু আচমকা কেন আত্মহত্যা করলেন এই মা-ছেলে?
পুলিশের অনুমান, দেনার দায়ে ডুবে ছিল বিনোদের পরিবার। সম্ভবত লোনের টাকা শোধ করতে না পারায় আত্মঘাতী হয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার বিনোদ এবং তাঁর মা সঞ্জীবনী। পূর্ব ভিরারের সাইবা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলতেন বিনোদ। পাশাপাশি একটি পার্ট টাইম চাকরিও করতেন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংসারে ছিল অভাব। দেনার দায়ে কোনওভাবেই শোধ হচ্ছিল। অনটনের সংসারে নিত্যদিন পাওনাদারের তাগাদায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন মা-ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশে অনুমান, সম্ভবত এই কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বিনোদ এবং তাঁর মা।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাহুল দ্রাবিড় উঠতি ক্রিকেটারদের বৃত্তিমূলক শিক্ষার দাবি তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্রিকেটাররা ক্রিকেট জীবনে ব্যর্থ হলেও যেন জীবিকার জন্য অন্য কোনও পথ বেছে নিতে পারেন। ক্রিকেট খেলতে খেলতে অনেক সময়েই অনেক উঠতি ক্রিকেটার পড়াশোনার দিকে সে ভাবে নজর দেন না। কিন্তু একটা সময়ের পর যদি ক্রিকেট জীবনে ব্যর্থ হন, তাহলে ওই তরুণের কাছে জীবিকা নির্বাহের আর কোনও পথ খোলা থাকে না। এই ব্যাপারেই ভারতীয় বোর্ডকে ভাবনা-চিন্তা করার আর্জি জানিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়।
ইতিমধ্যেই ভারতের বাজার জমিয়েছে আইপিএল। এই টি-টোয়েন্টি লিগের দৌলতে অল্প বয়সেই কেরিয়ার সেট হয়ে গিয়েছে বহু তরুণ ক্রিকেটারের। কিন্তু সেই সমাজেই টাকার অভাবে ঋণ শোধ করতে না পারায়, দেনার দায়ে আত্মহত্যা করতে হয়েছে এক তরুণ ক্রিকেটারকে। আপাতত এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রুজু হয়েছে একটি মামলাও।