দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি। অযোধ্যায় বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ার কথা ছিল এবছর। প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ মানুষ যান অযোধ্যায়। এবার আরও বেশি মানুষ আসবেন বলে আশা করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কারণ, ঐতিহাসিক অযোধ্যায় মামলার রায়ের পর এটাই প্রথম নবরাত্রি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কোপে প্রায় জনশূন্য অযোধ্যা। তবে এদিন সকালেই বুলেটপ্রুফ ফাইভারের সিংহাসনে বসিয়ে রামলালার মূর্তি সরানো হল অন্যত্র। আর জনা কুড়ি সাধুকে নিয়ে তা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মঙ্গলবার রাতেই অযোধ্যায় পৌঁছে যান যোগী। তারপর বুধবার সকালে রামলালার মূর্তি পুজো, আরতি সেরে তা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান তিনি। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা ঘোষণার পর বিজেপি শাসিত রাজ্যের একজন মুখ্যমন্ত্রী কী করে এই কাজ করলেন তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। তাতে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি দেওয়া হয় হিন্দুদের। একই সঙ্গে বলা হয়, মুসলিম সম্প্রদায়কে অযোধ্যাতেই অন্যত্র পাঁচ একর জমির ব্যবস্থা করে দিতে হবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই অনেকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল নবরাত্রি নিয়ে। এদিন যোগী বলেন, "রামলালার মূর্তি সরানো ভব্য রামমন্দির নির্মাণের সূচনা। তাই সেটা করা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে।" আগামী ২ এপ্রিল রামনবমী। ওইদিনও অযোধ্যায় লোক জমায়েত হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।
দিন ১৫ আগে হিন্দু মহাসভা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, "করোনাভাইরাসের কোপে নবরাত্রি বন্ধ হবে না।" কিন্তু গত ১৫ দিনে পরিস্থিতির অনেক বদল হয়ে গেছে। ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ পেরিয়ে গেছে। বেড়েছে মৃত্যু। গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে কার্ফু জারি হয়েছে। তাই আগের অবস্থান থেকে হিন্দু মহাসভাকেও পিছু হঠতে হয়।