দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ১৫ আগে কপালে ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল পরিবেশবিদদের। ভারতে বাঘের সংখ্যা যে ভাবে কমতে শুরু করেছিল, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ২০২০ সালের ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবসে ভারত সরকার যে পরিসংখ্যান সামনে আনল তা দেখে অনেকেই বলছেন, গত এক যুগে আমূল পরিবর্তন হয়েছে পরিস্থিতির।
ভারতে বাঘের সংখ্যা শুধু দ্বিগুণ হয়েছে তা নয়। হিষেব কষে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে যা বাঘ আছে, তার ৭০ শতাংশ রয়েছে ভারতে। এই মুহূর্তে দেশের ৫০টি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা দু'হাজার ৯৬৭টি। যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ভারতে বাঘ বেড়েছে ৬ শতাংশ।
https://twitter.com/PrakashJavdekar/status/1288313872797949954
১৯৭৩ সালে দেশে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প ছিল ৯টি। সেটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০টি। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিত টাইগার সামিত থেকে ২৯ জুলাই দিনটিকে বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালন করা সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়া মানে জঙ্গলের জীব বৈচিত্র্যের মধ্যেও ব্যাপক বদল হয়। যা সামগ্রিক ভাবে পরিবেষের ইকো সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে। সেদিক থেকে ভারতে যে ভাবে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক।
একটি সেমিনারে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেছেন, “বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিই বুঝিয়ে দেয় যে, দেশে প্রকৃতির ভারসাম্য ঠিক আছে। কারণ ভারতের মতো দেশে বন্যপ্রাণ বা জঙ্গল সংরক্ষণে প্রধান সমস্যা হল জমি। তার পরেও সেই কাজে ছেদ পড়েনি।" রিপোর্ট বলছে, দেশে মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি বাঘ রয়েছে। ব্যাঘ্র প্রকল্প ধরে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের কানহা এবং বান্ধবগড়ে বাঘের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
https://twitter.com/VPSecretariat/status/1288322707281436672
তবে বক্সা-সহ উত্তর-পূর্বের অন্তত ৩টি ব্যাঘ্র প্রকল্প আপাতত বাঘ-শূন্য। সেগুলিকে ফের বাঘে ভরাতে সরিস্কা-পান্নার পথে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। তবে জাভড়েকর বলেছেন, শুধু বাঘের দিকে তাকালেই হবে না। অন্য প্রাণীদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ৬০০ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩০ হাজার হাতি, ৩ হাজার একশৃঙ্গ গন্ডার, ৫০০টির বেশি সিংহ রয়েছে দেশে।