আচ্ছে দিন? ভারতের বৃদ্ধির হার এ বছর আরও কমবে, জানাল বিশ্বব্যাঙ্ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিন আগে আন্তর্জান্তিক অর্থ ভাণ্ডারের নতুন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা জর্জিয়েভা বলেছিলেন, বিশ্বজনীন মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ভারতের মতো দেশে আরও বেশি করে দেখা যেতে পারে।
রবিবাসরীয় সকালে বিশ্ব ব্যাঙ্কও রিপোর্ট
শেষ আপডেট: 13 October 2019 05:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিন আগে আন্তর্জান্তিক অর্থ ভাণ্ডারের নতুন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা জর্জিয়েভা বলেছিলেন, বিশ্বজনীন মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ভারতের মতো দেশে আরও বেশি করে দেখা যেতে পারে।
রবিবাসরীয় সকালে বিশ্ব ব্যাঙ্কও রিপোর্ট প্রকাশ করে সেই আশঙ্কার কথাই জানাল। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, চলতি আর্থিক বছরে ভারতে বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ গত আর্থিক বছরে প্রকৃত বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশের তুলনায় আরও মন্দগতিতে এগোবে ভারতীয় অর্থনীতি।
যদিও বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ধীরে হলেও এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারে ভারত। ২০২১ সালে আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৯ শতাংশ। তারপর ২০২২ সালে তা ৭.২ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
শুধু বিশ্বব্যাঙ্ক নয়, ঘরোয়া অর্থনীতি নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও। তাদের মতে, এ বছর আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের আশপাশেই থাকবে। আবার আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিজ ক'দিন আগে জানিয়েছে যে তাদের হিসাব অনুযায়ী ৫.৯ শতাংশের বেশি হারে ভারতে এ বার বৃদ্ধি হবে না।
সার্বিক এই পরিস্থিতি কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে যে চাপের মধ্যে ফেলছে তা নিয়ে সংশয় নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্বেগ স্বল্পমেয়াদে কেটে যাওয়ার মতো নয়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার বা চিদম্বরমকে গ্রেফতারের মতো ঘটনা দিয়ে অর্থাৎ শাক দিয়ে কতদিন মাছ ঢেকে রাখা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিজেপি-র মধ্যেই।
গোটা দেশকে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। অথচ দিল্লির তখতে তাঁর প্রথম মেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশেষ হয়েছে বলা যায় না। বৃদ্ধির হার ছিল কম। কৃষি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে বৃদ্ধির বহর ছিল মন্দ, যথাক্রমে ২.৯ এবং ৭.৫ শতাংশ। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতেও ব্যর্থ হয়েছে তাঁর সরকার। বরং সাম্প্রতিক কালে এত বেশি বেকারত্ব ভারতে দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ রয়েছে সাউথ ব্লকের উপর। দেশ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে দৃশ্যতই তৃষ্ণার্ত। কিন্তু দেখা গিয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই অর্থনৈতিক মন্দার গ্রাস ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ঘরোয়া অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গিয়েছে, তার ধাক্কায় উৎপাদন কমেছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পের চাহিদা তথা বিক্রিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। আটটি প্রধান শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদনও কমেছে। এমনকি অগস্ট মাসে শিল্পে উৎপাদন জুলাইয়ের থেকেও কমে গিয়েছে।
রবিবার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নোটবন্দি ও পণ্য পরিষেবা কর বাস্তবায়নের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির অবস্থা ভাল নয়, সেই সঙ্গে শহরে বেকারত্বও বেড়েছে। এর ফলে গরিব পরিবারগুলোর সংকট আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের কর্তারা মনে করছেন, বাজারে চাহিদা এক্ষুনি বাড়বে বলেও মনে হচ্ছে না। কারণ, গ্রামের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হচ্ছে না, ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি সংস্থাগুলি থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কম। তবে আশার কথা হল, সম্প্রতি সরকার কর্পোরেট ট্যাক্স যে ভাবে কমিয়েছে তা শিল্প মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর ফলে লগ্নির পরিমাণ বাড়তে পারে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো সংখ্যার বিশেষ লেখা…..