দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোর করে মদ খাইয়ে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে। তরুণীর ৫ বছর বয়সী ছেলের সামনেই হয়েছে এই ঘটনা। এই ঘটনায় তরুণীর স্বামী ও আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের তিরুবনন্তপুরমে। ২৫ বছরের ওই তরুণী অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্বামী কাছেই পুথুকুরিচি বিচে নিয়ে যায়। তারপর সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে কাছেই এক বন্ধুর বাড়িতে সবাইকে নিয়ে যায় ওই মহিলার স্বামী। সেখানে তাঁর স্বামীর ৬ বন্ধু উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তরুণী।
তরুণীর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে সবাই মদ খেতে বলে। তিনি রাজি না হলে সবাই মিলে তাঁকে জোর করে মদ খাওয়ায়। তারপর তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। তাঁর ৫ বছরের ছেলের সামনেই ঘটে গোটা ঘটনা। অন্য ছেলে সেই সময় পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তাঁর সারা শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও মারধর করা হয়। এইসব দেখে তাঁর বাচ্চা ছেলে মার কাছে যেতে চাইলে তাকেও সবাই মিলে মারধর করে।
এই ঘটনার পরে সেখান থেকে কোনও রকমে পালিয়ে যান ওই তরুণী। কিছুদূর যাওয়ার পরেই এক যুবককে দেখেন তিনি। তাঁর কাছে গিয়ে সবটা বলেন। তখন ওই যুবক তাঁকে প্রথমে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তারপর সেখান থেকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে নিজের অভিযোগ নথিভুক্ত করেন তরুণী।
অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর স্বামী ও চার বন্ধুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় তরুণীর দুই সন্তানকেও। শুক্রবার আর এক বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। এখনও এক বন্ধু পলাতক। তার খোঁজ চলছে। তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। তরুণী, তাঁর সন্তান ও যে যুবক তাঁকে থানায় এনেছিলেন, তিনজনেরই বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর, গণধর্ষণের মতো একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু এক নাবালকের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে তাই পকসো ধারাতেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কেরল রাজ্য মহিলা কমিশনের তরফেও আলাদা করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিরুবনন্তপুরম গ্রামীণ পুলিশ সুপারের কাছে এই ঘটনার একটি রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে মহিলা কমিশন। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।