দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ভারত। বিশেষ করে উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে পারদ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অসহনীয় তাপে টেকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইছে লু-ও। তাপমাত্রা হয়েছে লাগামছাড়া। উষ্ণতা কমার কিংবা বৃষ্টির কোনও লক্ষণই নেই। বরং দিনদিন আরও বাড়ছে রোদের তেজ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সান স্ট্রোক এবং হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা।
রাজধানী শহর দিল্লি, রাজস্থানের চুরু এবং বান্দা, আর উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ-----এই চার শহরে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। গত সপ্তাহে দু'বার চুরুর পারদ ছুঁয়েছিল ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরের ট্রেন্ড অনুযায়ী এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮ ডিগ্রি বেশি। বান্দার তাপমাত্রা ছিল ৪৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এলাহাবাদে ৪৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রেকর্ড ব্রেকিং গরম পড়েছে দিল্লিতেও। ইতিহাসে এই প্রথম দিল্লির তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে বলে দাবি করেছে স্কাইমেট। সোমবার রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। গত দু'দিন ধরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে খুব জলদিই পারদ ৪৭-এ পৌঁছবে বলে অনুমান আবহবিদদের। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েকবছর ধরে লাগামছাড়া ভাবে বাড়ছে তাপমাত্রা। পাল্লা দিয়ে বইছে লু। চলছে তাপপ্রবাহ। গত সপ্তাহে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট এল-ডোরাডো-র রিপোর্টে দেখা গিয়েছে বিশ্বের ১৫টি উষ্ণতম জায়গার মধ্যে ১১টিই রয়েছে ভারতে। বাকিগুলো প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন হচ্ছে আবহাওয়া। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রাও। সারা বিশ্বই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতে প্রতি বছর তীব্র গরমেই মৃত্যু হয় কমপক্ষে ১০০ জনের। তাই পরিবেশবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য অবিলম্বে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৬০০০ লোক মারা গিয়েছেন তাপপ্রবাহে।