দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গেই ক্রমাগত রাজধানী দিল্লিতেও বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার একদিনে দিল্লিতে নতুন করে প্রায় ৩০০০ জন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আর তার ফলে রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮০ হাজার। এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন।
দিল্লির স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার নতুন করে ২৯৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন রাজধানীতে। এর ফলে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০,১৮৮। শনিবার রাজধানীতে নতুন করে ৬৬ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এর ফলে এখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৫৮।
সেইসঙ্গে অবশ্য সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে দিল্লিতে। শনিবার নতুন করে ২২০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে খবর। এর ফলে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,৩০১। অর্থাৎ রাজধানীতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৬১ শতাংশ। এই মুহূর্তে দিল্লিতে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ২৮,৩২৯।
দিল্লিতে শনিবার থেকে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। শনিবার ১৯ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে রাজধানীতে। এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে মোট ৪,৭৮,৩৩৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন।
সারা দেশে যে শহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অন্যতম দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল ঘোষণা করেন, অতিমহামারী রুখতে কি ব্যবস্থা নিয়েছে তাঁর সরকার। কেজরিওয়ালের কথায়, “আমরা আন্দাজ করেছিলাম, লকডাউন শিথিল করার পরে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এত বাড়বে ভাবতে পারিনি। আমাদের সামনে দু’টি উপায় ছিল। প্রথমত, ফের লকডাউন করা। দ্বিতীয়ত ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা। লকডাউন একদিন না একদিন শেষ করতেই হত। তাই আমরা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করারই সিদ্ধান্ত নিলাম।”
করোনা ঠেকাতে তাঁর সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও এদিন জানান কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “আমরা প্রথমেই ঠিক করেছিলাম, কোভিড আক্রান্তদের জন্য বেড বাড়াতে হবে। কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালকে আমরা কোভিড সেন্টার হিসাবে ঘোষণা করেছিলাম। সেখানে করোনা রোগীদের জন্য ৩৫০০ বেডের ব্যবস্থা হয়েছিল। এখন দিল্লিতে যত হাসপাতাল আছে, তার ৪০ শতাংশ বেড করোনা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত।”
কেজরিওয়াল জানান, করোনা রোগীদের জন্য দিল্লিতে প্লাজমা থেরাপি চালু হয়েছে। এছাড়া টেস্টিং-এর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন রাজধানীতে রোজ ২০ হাজার লোকের পরীক্ষা হচ্ছে। দক্ষিণ দিল্লির এক অস্থায়ী কোভিড সেন্টারে ২ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রাধা-স্বামী স্পিরিচুয়াল সেন্টারে সাড়ে ১২ লক্ষ বর্গ ফুট জায়গা জুড়ে ১০ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি হোটেল ও ব্যাংকোয়েট রুমকেও করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করেছে সরকার। সব মিলিয়ে দিল্লিতে করোনা রোগীদের জন্য ১৩ হাজার ৫০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।