দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিনের মধ্যেই দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন চলে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কীভাবে সেই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও বন্টন করতে হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। ভ্যাকসিনের দাম কী হবে সেই বিষয়েও রাজ্যগুলির সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। এবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানালেন, তাঁর রাজ্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেবে সবাইকে।
সাংবাদিকদের বিজয়ন বলেন, “এটা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিষয়েই বেশিরভাগ মানুষ ভাবছে। তাই সেখানে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। কেরলে কী পরিমাণ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে সেটা এখনও জানতে না পারলেও এটা বলতে পারি যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নিতে চায় না সরকার। বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বন্টনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য।”
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বিজয়ন বলেন, “এটা আশার খবর যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। যদিও খেয়াল রাখতে হবে পুরসভার ভোটের জন্য এই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে কিনা। সেটা অবশ্য আগামী দিনেই জানা যাবে।”
গত ২৪ ঘণ্টায় কেরলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। এর ফলেই এই রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছল ৬ লাখ ৬৪ হাজারের ঘরে। অন্যদিকে এখনও অবধি ২৫৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণের এই রাজ্যে ৫২৬৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে মোট সুস্থতার সংখ্যা পৌঁছেছে ৬ লাখ ৬১ হাজারের ঘরে।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে প্রতি সেশনে ১০০ জনকে কোভিড টিকা দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একবারে ১০০ জনকে টিকা দেওয়া যাবে। খুব বেশি হলে সংখ্যাটা বেড়ে ২০০ হতে পারে। সেটা নির্ভর করছে সেখানকার ক্ষমতার উপর। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে টিকাকরণের দিন ঠিক করতে হবে। ঠিক যেভাবে ভোট প্রক্রিয়া চলে সেভাবেই টিকাকরণের প্রক্রিয়া চলবে বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জারি একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আশা করা যাচ্ছে শিগগির কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসবে। ইতিমধ্যেই ভারত সরকার সব প্রস্তুতি সেরে রাখছে যাতে ভ্যাকসিন এলেই তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এই পথে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অন ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর কোভিড-১৯-এর প্রতিষ্ঠা। এই গ্রুপ ভারতে কোভিড টিকাকরণের দিকে লক্ষ্য রাখবে।”
এই নির্দেশিকাতেই বলা হয়েছে, “এক সেশনে ১০০ জন টিকা পাবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও কোভিড যোদ্ধারা নির্দিষ্ট সেশন থেকে ভ্যাকসিন পাবেন, তবে আরও যে জনসংখ্যার ভ্যাকসিন দরকার তাদের হয়তো অন্য সেশনে বা মোবাইল সেশনে যেতে হতে পারে।” টিকা দেওয়ার জন্য যে দল থাকবে তাতে ৫ জন সদস্য থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।