দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার দুপুরে হঠাৎ করেই সুখবরটা ভেসে আসে ভারতীয়দের জন্য। চাঁদের বুকে ল্যান্ডার বিক্রমকে খুঁজে পেয়েছে অরবিটার, এমনটাই জানান ইসরো অধিকর্তা কে শিবণ। কিন্তু খুঁজে পেলেও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলেই জানান তিনি। কিন্তু কেন করা সম্ভব হচ্ছে না এই যোগাযোগ? এই বিষয়ে সম্ভাব্য কারণ জানালেন চন্দ্রযান ১-এর দায়িত্বে থাকা মিলস্বামী আন্নাদুরাই।
চন্দ্রযান ১-এর ডিরেক্টরের মতে, এমন জায়গায় ল্যান্ড করেছে বিক্রম, যেখান থেকে সিগন্যাল আসার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "আমরা ল্যান্ডারকে খুঁজে পেয়েছি। এখন আমাদের যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে ল্যান্ডার নেমেছে, মনে করা হচ্ছে সেই জায়গা সফট ল্যান্ডিং-এর পক্ষে উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ হার্ড ল্যান্ডিং হয়েছে বিক্রমের। হতে পারে সেখানে এমন কিছু বাধা রয়েছে যার জেরে যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "সাধারণত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অরবিটার ও ল্যান্ডার দুজনের তরফ থেকেই সিগন্যাল আদান-প্রদানের কথা। কিন্তু এখানে আমরা খালি অরবিটার থেকে সিগন্যাল পাঠাচ্ছি। ল্যান্ডার থেকে সিগন্যাল আসছে না। তাই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।"
শুক্রবার রাত ১টা ৫৫মিনিটে সফট ল্যান্ডিংয়ের আগেই ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ‘টাচ ডাউন’-এর শেষ ১৫ মিনিট বেড়ে দাঁড়ায় আধ ঘণ্টায়। উৎকণ্ঠায় হই চই শুরু হয়ে যায় ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমে। ভেঙে পড়তে দেখা যায় ইসরো কর্তা কে শিবনকে। তবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে জানানো হয়, এখনও ভরসা হারায়নি ইসরো। বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে জোরকদমে। চাঁদের কক্ষপথে বসানো অরবিটারই খুঁজে বার করতে পারে তাকে।
রবিবার বিক্রমের খোঁজ পাওয়ার পর কে শিবণ জানান, অরবিটারের থার্মাল ইমেজে ধরা পড়েছে বিক্রমের ছবি। তার শরীরের ভিতরে প্রজ্ঞানও অক্ষত অবস্থাতেই আছে বলে মনে করা হচ্ছে। অরবিটারের মাধ্যমে তার সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।