দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে কেরলের কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুবাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমান আইএক্স- ১৩৪৪। ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায় বিমানটি। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে বিমানের দু’জন পাইলটও রয়েছেন। জানা গিয়েছে, অবতরণের সময় পিছলে রানওয়ের বাইরে বেরিয়ে যায় বিমানটি। তাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে কোঝিকোড়ের টেবিলটপ রানওয়ে অবতরণের জন্য সবসময়ই ঝুঁকির। একাধিক বিমান অবতরণ বন্ধও করেছে এই বিমানবন্দরে। তার অবশ্য একাধিক কারণও রয়েছে। কেন সমস্যা হয় এই ধরণের রানওয়েতে অবতরণের সময়? কেনই বা অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয় পাইলটদের?
সবার আগে জানতে হবে টেবিলটপ বিমানবন্দর বা রানওয়ে ঠিক কী?
যখন কোনও বিমানবন্দর কোনও মালভূমি বা পাহাড়ের মাথায় তৈরি করা হয় তখন তাকে টেবিলটপ বিমানবন্দর বলে। এক্ষেত্রে রানওয়ের চারদিকে থাকে গভীর খাদ। অর্থাৎ একটু এদিক ওদিক হলেই সোজা খাদে গিয়ে পড়বে বিমান। মালভূমি বা পাহাড়ের মাথায় হওয়ায় রানওয়ের দৈর্ঘ্যও অনেক বিমানবন্দরের থেকে কম হয়। ফলে বড় বিমান যেমন এয়ারবাস বা বোয়িং অবতরণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। কোঝিকোড়ের বিমানবন্দরও একদম এই ধরনের।
দুর্ঘটনার পরে ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, অবতরণের পরে বিমানটির চাকা পিছলে যায়। ফলে সেটি থামতে পারেনি। রানওয়ে নম্বর ১০ অতিক্রম করে পাশের ৩৫ ফুট নিচু খাদে পড়ে যায় বিমানটি। তারপরেই সেটি দু’টুকরো হয়ে যায়। কেবিনের দিকের অংশে আগুন লেগে দুই পাইলটের মৃত্যু হয়। বাকি অংশে আগুন লাগেনি। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সুইডিশ ফ্লাইট ট্র্যাকার কোম্পানি ফ্লাইটর্যাডার২৪ জানিয়েছে, দুবাই থেকে পাইলট ও বিমানকর্মী- সহ ১৯০ জনকে নিয়ে আসা বিমান অন্তর দু’বার কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া থাকায় সেটি ল্যান্ড করতে পারেনি। তৃতীয়বার ল্যান্ড করার সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে।
কোঝিকোড় বিমানবন্দরে এই সমস্যা আজকের নয়। বারবার রানওয়ের দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা তাদের বোয়িং ৭৭৭ বা এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো বড় বিমানগুলির এই বিমানবন্দরে অবতরণ বন্ধ করে দিয়েছে।
এয়ার সেফটি বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন জানিয়েছেন, তিনি ন’বছর আগে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন কেন এই বিমানবন্দর অবতরণের জন্য সুরক্ষিত নয়। ক্যাপ্টেন রঙ্গনাথন জানিয়েছেন, কেরলের চারটি বিমানবন্দরের মধ্যে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে সবথেকে ছোট। এছাড়া বৃষ্টিতে এই রানওয়ের অনেক ক্ষতিও হয়েছে।
ক্যাপ্টেন রঙ্গনাথন বলেন, “কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই খাড়া ঢাল। কোনও অতিরিক্ত জায়গা নেই। ন’বছর আগেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সেটা জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও এই বিমানবন্দরকে সুরক্ষিত ঘোষণা করে কাজ চলছে। তাই এই দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে সেটা খুন। একে অপরাধের মধ্যে ধরা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “রানওয়ের দু’দিকেই প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদ রয়েছে। এই খাদ খুবই খাড়া। অর্থাৎ একটু এদিকে ওদিক হলে বড় দুর্ঘটনা হবে। এখানে চোখ বন্ধ করে বিমান পরিষেবা চলছে।”
অবশ্য তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর জানিয়েছেন, কোঝিকোড় বিমানবন্দর যথেষ্ট বড়। তিনি বলেন, এর রানওয়ে যথেষ্ট বড়। রানওয়ের পাশে খাদ থাকার মানে এই নয় এটা ছোট বিমানবন্দর। প্রচুর আন্তর্জাতিক বিমান এখানে চলাচল করে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, খারাপ আবহাওয়া, বৃষ্টি, প্রচণ্ড হাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি পাইলটরা। তার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে রানওয়ের কোনও সম্পর্ক নেই।