দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিন ও ভারতীয় সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইট করে মোদীর 'নীরবতা' ও প্রকৃত ঘটনা 'আড়াল' করা নিয়ে তোপ দাগেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।
বুধবার সকালে রাহুল লেখেন, "প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন? তিনি কেন লুকোতে চাইছেন? অনেক হয়েছে। আমরা জানতে চাই কী ঘটেছে। চিনের সাহস হয় কী করে আমাদের সেনাদের মারার? কী করে তারা আমাদের জমি নিয়ে নিচ্ছে?"
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1273094280307867648?s=08
তারপর একটি ভিডিওবার্তায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় দেশের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের প্রতি শোক জ্ঞাপন করেন ওয়ানাড়ের সাংসদ। সেইসঙ্গে ওই ভিডিওতে মোদীর উদ্দেশে রাহুল বলেন, "দু'দিন আগে ভারতের ২০ জন সেনারা প্রাণ গেল। ওরা (পড়ুন চিন) এই পরিবারগুলি থেকে তাঁদের সন্তানদের ছিনিয়ে নিল। এবার আপনি প্রকাশ্যে এসে সত্যিটা বলুন। চিন আমাদের জমিতে থাবা বসাচ্ছে, আমাদের ভূখণ্ড দখল করে নিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীজি আপনি নীরব কেন? আপনি কোথায় লুকোতে চাইছেন? আপনি সামনে আসুন। গোটা দেশ আপনার সঙ্গে রয়েছে। সামনে এসে সত্যিটা বলুন। ভয় পাবেন না।"
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1273128695994220544?s=08
শুধু রাহুল গান্ধী নন। রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, আনন্দ শর্মার মতো শীর্ষ সারির কংগ্রেস নেতারাও লাদাখ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। আনন্দ শর্মা টুইট করে লেখেন, "প্রধানমন্ত্রী এবার আপনি প্রকাশ্যে এসে দেশের মানুষকে আত্মবিশ্বাস দিন।"
মঙ্গলবার দুপুরে জানা যায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও দুই জওয়ান চিনা বাহিনীর হামলায় গালওয়ান ভ্যালিতে শহিদ হয়েছেন। তার খানিকক্ষণ পর ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মিরও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। রাতে সংবাদসংস্থা এএনআই জানায় মোট ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন। সঙ্গে এও জানা যায় চিনা সেনাবাহিনীর ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। বেজিংয়ের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান দেয়নি।
নয়াদিল্লির তরফে বেজিংয়ের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি ফেরাতে ও উত্তেজনা প্রশমনে ভারত সরকার রাজি। কিন্তু দেশের অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম চিনা বাহিনীর হামলায় ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানদের প্রাণ গেল। তাও আবার কোনও গুলি বিনিময় ছাড়াই। পুরো সংঘর্ষটাই হয়েছে লোহার রড, লাঠি, পাথর ইত্যাদি দিয়ে।
চিন-ভারত সংঘাত নিয়ে যেমন কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে তেমনই বিরোধীদের তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রী-সহ গোটা কেন্দ্রীয় সরকার।