দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিংসায় বিধ্বস্ত দিল্লি। রাজধানী জুড়ে শুধু আগুন, রক্ত, মৃত্যু। লাগাতার হিংসায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এর মধ্যেই ১৩০জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ঘেঁটে পুলিশ একপ্রকার নিশ্চিত যে, দুই গোষ্ঠীই হিংসাকে ছড়িয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে।
পুলিশ জানিয়েছে শুধু দিল্লির লোকজনই নয়। ওইসমস্ত গ্রুপগুলিতে যুক্ত রয়েছে দিল্লি লাগোয়া উত্তরপ্রদেশেরও অনেকে। বাইরে থেকে লোক ঢোকা, আক্রমণের জায়গা চূড়ান্ত করা, কোন মহল্লায় কতজনের দল কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে হামলা করবে সব ঠিক হয়েছে ওইসমস্ত গ্রুপগুলোতে আলোচনা করেই।
মুহূর্তের মধ্যে হিংসার ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়াতেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মত অনেকের। ফেসবুকে এমনও লাইভ ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দোকান বা ঘরবাড়ি লুঠের দৃশ্য। অর্থাৎ হিংসা ছড়াতে ছড়াতেই তা লাইভ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই-- অনেকটা এলাকা জুড়ে এই হিংসাকে ছড়িয়ে দেওয়া।
হিংসা রুখতে ব্যর্থ হওয়ায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। একাধিক রাজনৈতিক নেতার উস্কানিমূলক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বক্তব্য। কার্ফু জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চার থানা এলাকায় দেখলেই গুলি চালানোর নির্দেশ জারি করে দিল্লি কমিশনারেট। তারপরও হিংসা থামেনি। আজও দুটি দেহ উদ্ধার হয়েছে নর্দমা থেকে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল শান্তি ফেরার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই দেখা যায়নি। এর মধ্যেই সামনে এল একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নেপথ্য কাহিনী।