দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামা কাণ্ডে কোনও তদন্ত না করেই দোষারোপ করা হচ্ছে বলে যখন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন সেই অভিযোগ সপাটে খারিজ করে দিতে চাইলেন বিজেপি তথা কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, পুলওয়ামার ঘটনার নেপথ্যে যে পাকিস্তানের সরাসরি হাত রয়েছে, সে ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে নয়াদিল্লির কাছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মমতার ওই বক্তব্য শুনেই বিজেপি মুখপাত্ররা বলতে শুরু করেন, তৃণমূলনেত্রী নির্লজ্জ ভাবে তুষ্টীকরণের রাজনীতি করছেন। পরে কেন্দ্রে মোদী সরকারের শীর্ষ নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনার পর গোটা রাষ্ট্রের এক সুরে কথা বলা উচিত। কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে আলটপকা মন্তব্য করছেন, তাতে আন্তর্জাতিক স্তরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অবস্থান লঘু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুলওয়ামার ঘটনার পর শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। পরে সাংবাদিক বৈঠকে অরুণ জেটলি জানিয়েছিলেন, “নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে পুলওয়ামার ঘটনার বিশদে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সে ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনও তথ্য জানানো সম্ভব নয়। তবে গোটা ঘটনার নেপথ্যে যে পাকিস্তানের সরাসরি হাত রয়েছে, সে ব্যাপারে অকাট্য, সন্দেহাতীত প্রমাণ রয়েছে নয়াদিল্লির কাছে। ওই তথ্য ও প্রমাণ হাতে নিয়ে বিদেশমন্ত্রক কূটনৈতিক দৌত্য শুরু করেছে। যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে ইসলামাবাদকে একঘরে করে দেওয়া যায়।”
সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, পুলওয়ামার ঘটনায় পাক-যোগের প্রমাণ পাওয়ার পরেই ভারতে স্থিত পাক রাষ্ট্রদূতকে বিদেশ মন্ত্রকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তা ছাড়া বিদেশমন্ত্রক এ ব্যাপারে একটি ডোসিয়ার তৈরি করেছে। যা কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া সহ সবকটি শক্তিধর রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছেও ওই ডোসিয়ার পেশ করবে নয়াদিল্লি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বেরোনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,“পররাষ্ট্র বিষয়ে আমি সচরাচর মন্তব্য করি না। এ সব ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানই আমার অবস্থান। তবে গতকাল ঘটনার পর পরই জানিয়ে দেওয়া হয়, এ ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশদে না গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। আগে খুবই স্পর্শকাতরতার সঙ্গে তদন্ত করা হোক। তার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, দলনেত্রী কোনও আলটপকা মন্তব্য করেননি। তিনি সুচিন্তিত ভাবেই এ কথা বলেছেন। যে রকম মর্মান্তিক ভাবে জওয়ানদের মৃত্যু হয়েছে তা দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পর তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দাবিও জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে শুধু বলেছেন, গোটা ঘটনার বিশদে তদন্ত না করে কেন কাউকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আগে বিশদে তদন্ত হোক, তার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, এ ঘটনার নেপথ্যে কত রকম ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তা ছাড়া গোয়েন্দা ব্যর্থতা তো রয়েছেই। সেই ব্যাপারে বিশদে তদন্ত করে দায় সুনিশ্চিত করা উচিত।
আরও পড়ুন-
https://thewall.in/news-national-mamata-banerjee-questions-why-allegation-has-been-made-before-proper-investigation/