দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই যেন মেরুকরণকে তীব্র করছে বিজেপি। সেই ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শাহিনবাগে শুরু হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকড় সরাসরি বলে দিলেন, আজাদি নাকি ভারত মাতা কি জয়—কোন স্লোগান দিল্লির মানুষ বেছে নেবেন তা এই ভোটেই ঠিক করতে হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে জাভড়েকর বলেন, “জিন্নাওয়ালি আজাদি নাকি ভারত মাতা কি জয়—কোন স্লোগান দিল্লির মানুষ বেছে নিচ্ছেন তা ঠিক করতে হবে এই ভোটের মাধ্যমেই।” পর্যবেক্ষকদের মতে, বিক্ষোভকারীদের ‘আজাদি’ স্লোগানের সঙ্গে মহম্মদ আলি জিন্নার নাম জুড়ে দিয়ে আসলে মেরুকরণকেই আরও তীব্র করতে চেয়েছেন দিল্লির ভোটে বিজেপির তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা।
জাভড়েকর এই আজাদি স্লোগান নিয়ে একযোগে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস ও দিল্লির শাসকদল আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “আপ আর কংগ্রেস মিলেই সংখ্যালঘুদের মনে বিষ ঢালছে। আর তাঁরা আন্দোলন করছেন।” শাহিনবাগের আন্দোলনকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরাসরি মদত দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন জাভড়েকর।
আজাদি স্লোগান নিয়ে বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভ অনেকদিনের। পাঁচ বছর আগে যখন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদরা এই স্লোগান দিয়েছিলেন, তখন সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা রুজু করা হয়েছিল। স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, জেএনইউ ক্যাম্পাসকে বিচ্ছিন্নতাবাদের আখড়া বানানো হচ্ছে। দু’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, আন্দোলনের নামে যারা আজাদি স্লোগান দেবে তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা রুজু করা হবে।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভোট ১৩ তারিখ গণনা। রাজধানীর ভোটকে এবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি। গতবার ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টিতে জিতেছিল আম আদমি পার্টি। এখন দেখার যে, বিজেপি এবার খেলা ঘোরাতে পারে কিনা। নাকি ফের মসনদ দখলে রাখতে পারে আপ।