দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের প্রচার মঞ্চে বিস্তর রবীন্দ্র-চর্চা, কিন্তু সংসদের চিত্র কী?
ফুল-মালায় সাজানো ব্যাকগ্রাউন্ড। সামনে রাখা রবীন্দ্রনাথের ছবির উপর পড়ছে ঝকঝকে স্পট লাইট। কিন্তু সংসদ ভবনে কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে ঠিক ক’জন হাজির ছিলেন পঁচিশে বৈশাখের সকালে?
অবাক হবেন না। মাত্র তিনজন!
তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং লোকসভার মহাসচিব স্নেহলতা শ্রীবাস্তব। এঁরা ছাড়া ভোটের বাজারে আর কারোরই সময় হল না সংসদ ভবনে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে মালা দিতে যাওয়ার। তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর। তাঁকে স্মরণ করার। কোনও দলের কোনও নেতার না।
এ নিয়ে ক্ষোভ ঝরে পড়েছে সুখেন্দুশেখরের গলা থেকে। বিজেপি-র কোনও মন্ত্রী বা পরিষদীয় নেতা না যাওয়ায় তৃণমূলের এই রাজ্য সভার সাংসদ বলেন, “আমি, আডবাণীজি আর লোকসভার মহাসচিব ছাড়া সংসদ ভবনে আজ ‘রবীন্দ্র প্রণাম’ অনুষ্ঠানে কেউ এলেন না। অথচ, আজ সকালে পুরুলিয়ার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বারবার গুরুদেব গুরুদেব বলে চিৎকার করলেন। কিন্ত তাঁর মন্ত্রিসভার কেউ, বিশেষত পরিষদীয় মন্ত্রী বা রাজ্যসভার কাউকে সংসদ ভবনে পাঠাতে পারলেন না!”
এমনিতে বিজেপি, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু জানে না বলে ধারাবাহিক প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল। বিজেপি-কে বাঙালি বিদ্বেষী বলেও তোপ দেগেছে বাংলার শাসক দল। বীরভূমের সভায় এসে ‘মুখ ফস্কে’ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ বীরভূমের মাটিতে জন্মেছিলেন। এপ্রিল মাসের জনসভায় বলে যাওয়া সেই ভুল নিয়ে বৃহস্পতিবারও টুইট করা হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে। সংসদের মতো জায়গায় এই অবস্থা দেখে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। তাঁদের কথায়, “আমাদের দেশের নেতারা আবার পরের বছর পঁচিশে বৈশাখে হয়তো লাইন দিয়ে সংসদ ভবনে মালা দেবেন। কারণ তখন ভোট থাকবে না। আসলে এঁদের কাছে ভোটটাই সব!”
যদিও বঙ্গ বিজেপি-র নেতারা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অশ্রদ্ধার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “আডবাণীজি তো গিয়েছিলেন। তাঁর যাওয়াটাই তো অনেক। আর তা ছাড়া, তৃণমূল এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন, নিজেদের সব সাংসদকে পার্লামেন্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু তা তো হয়নি। তাই এ সব কথার কোনও যুক্তি নেই।”