দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত সফরে এসে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও।
মঙ্গলবার রাতে ভারতে এসে পৌঁছেছেন পম্পিও। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়। পরে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভারত নীতি’ নিয়ে বক্তৃতায় তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপোষ করা হলে বিশ্ব জুড়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
মার্কিন বিদেশ সচিবের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা চলছেই। গণ পিটুনির ঘটনাও অব্যাহত।
মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের ওই রিপোর্ট নিয়ে জোরালো আপত্তি তুলেছিল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছিল, ভারতের নাগরিকরা সাংবিধানিক অধিকারের মাধ্যমে সুরক্ষিত। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ সব ধর্মের সব জাতির মানুষের মৌলিক অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। ভিন দেশের এ ধরনের কোনও রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। অন্যদিকে ওই মার্কিন রিপোর্টকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেছিল বিজেপি।
কিন্তু দেখা গেল, এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্যেও অনড়। এ দিন পম্পিও বলেন, “পৃথিবীর অন্যতম চারটি ধর্মের জন্মস্থান হল ভারত। তাই চলুন, ঐক্যবদ্ধ ভাবে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করি। ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো স্বরে কথা বলি। নইলে গোটা পৃথিবীর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠবে”।
মোদী সরকারের প্রথম জমানায় ভারত সফরে এসেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভারতের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিস্থিতি নিয়ে ওবামাও সে বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। যা অস্বস্তিতে ফেলেছিল বিজেপি তথা মোদী সরকারকে। মার্কিন বিদেশ সচিবের এ দিনের মন্তব্যও মোদী সরকারের জন্য অস্বস্তিজনক বলে মনে করছেন অনেকে।
জইশ ই মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রপুঞ্জ যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি বলে ঘোষণা করেছে, এ দিন সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন পম্পিও। তিনি বলেন, এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও খুশি। তাঁর কথায়, “বিশ্ব মঞ্চে ক্রমশ ভারতের উত্থান হচ্ছে। ভারতের এই ইতিবাচক প্রয়াসকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানাচ্ছে।”
এ দিনের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পম্পিও। সেই সঙ্গে মার্কিন বিদেশ সচিব বলেন, এই দুই নেতারই ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের পাশে থেকে ইতিবাচক লক্ষ্যে এগোতে বদ্ধপরিকর।