দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের একবার নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। ওড়না গলায় পেঁচিয়ে খুনেরও চেষ্টা করা হয় তরুণীকে। কেটে নেওয়া হয় জিভ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি তিনি। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০ বছরের ওই তরুণী তপশিলি সম্প্রদায়ের। গ্রামের উঁচু সম্প্রদায়ের চার যুবক তাঁকে ধর্ষণ করে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। এই ঘটনার পরে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তরুণীকে। ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। এমনকি তাঁর জিভ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। দরকার পড়লে আরও বড় হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার পরেই চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে তারা।
অবশ্য তরুণীর পরিবার অভিযোগ করেছে, শুরুতে পুলিশ তাঁদের কথায় গুরুত্ব দিতে চায়নি। কিন্তু বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরে ব্যবস্থা নেয় তারা। অবশ্য পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে হাথরাস জেলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঘটে এই ঘটনা। তরুণীর ভাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমার মা, দিদি ও দাদা ঘাস আনতে ক্ষেতে গিয়েছিল। অনেকটা ঘাস নিয়ে আমার দাদা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে। আমার মা ও দিদি তখনও ঘাস কাটছিল। অন্যদিকে বাজরা ক্ষেতের মধ্যে ওরা লুকিয়ে ছিল। একটু পরে মায়ের থেকে দিদি কিছুটা দূরে চলে যায়। তারপরে তিনজন বেরিয়ে এসে পিছন থেকে দিদির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে বাজরা ক্ষেতে নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “দিদিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ পরে অজ্ঞান অবস্থায় দিদিকে উদ্ধার করা হয়। ওরা দিদিকে ধর্ষণ করেছে। ওর জিভ কেটে নিয়েছে। পুলিশ শুরুতে আমাদের সাহায্য করতে চায়নি। কিন্তু বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় চার পাঁচদিন পরে ওরা ব্যবস্থা নেয়।”
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে জানানো হয় সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিয়েছেন তাঁরা। হাথরাসের পুলিশ আধিকারিক প্রকাশ কুমার একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা সঙ্গে সঙ্গেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করি। তার কাছ থেকে বাকি তিনজনের নাম পাওয়ার পরে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়। আমরা তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ করে দেব। পুলিশ সুপার জেলা বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন এই মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে শুনানির জন্য।”