দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার উত্তরপ্রদেশে লকআপে মৃত্যু হল এক যুবকের। জানা গিয়েছে, বেআইনিভাবে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল তাকে। এই ঘটনার পরে লকআপে পুলিশের অত্যাচারে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ করেছে তার পরিবার। যদিও পুলিশের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলী জেলায়। রবিবার সকালে লকআপে মৃত্যু হয় ১৯ বছরের ওই যুবকের। তারপরেই থানা ঘিরে প্রতিবাদ শুরু করে স্থানীয় মানুষ। অভিযোগের পরে ওই থানার দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বাইক চুরির দায়ে অভিযুক্ত ছিল ওই যুবক। লকআপে তার নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। এই উপসর্গ সাধারণত কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রায়বরেলীর লালগঞ্জ এলাকায় ১৯ বছরের মোনু ওরফে মোহিতকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, একটি বাইক চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত সে। মোহিতকে আটক করার আগে এই ঘটনায় আরও চারজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
মোহিতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশনে ২৪ ঘণ্টার উপর আটক করে রাখা হয় পাঁচজনকে। সেখানে তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়। তাতেই মোহিতের মৃত্যু হয়। তার ভাই সোনু অভিযোগ করেছে, “পুলিশ আমাকে ও আমার দাদাকে আটক করে। তারপর আমাকে ছেড়ে দিলেও দাদাকে আটকে রাখে। তারা ক্রমাগত বলতে থাকে, কোথায় চাবি রয়েছে। ওরা মোহিতকে খুব মারধর করে।”
অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ। তারা বলে, রবিবার সকালে জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে মোহিতের। তার মধ্যে কোভিড ১৯-এর উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল।
রায়বরেলীর পুলিশ প্রধান স্বপ্নিল মামগাইন জানিয়েছেন, “শনিবার সন্ধ্যায় পেটে ব্যথা শুরু হয় মোহিতের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকালে ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা বলেন, তাঁর মধ্যে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা গিয়েছে। তার অক্সিজেন লেবেলও কমে যায়। তার শরীরের বাইরে কোনও আঘাত ছিল না। সকাল ১১টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তার ভিডিও তুলেও রাখা হয়েছে। পরিবারের বাসিন্দারা দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
মোহিতকে যে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল, তা স্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ওই যুবককে ২৪ ঘণ্টার উপর বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। এভাবে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে পুলিশ স্টেশনের আধিকারিককে বরখাস্ত করার হয়েছে।”