দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক কাফিল খানকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এলাহাবাদ আদালত। কিন্তু তারপরেও সেই নির্দেশ মানতে দেরি হয় জেল কর্তৃপক্ষের। অবশেষে মঙ্গলবার মাঝরাতে মথুরা জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হল কাফিল খানকে।
কাফিল খানের পরিবারের অভিযোগ, এলাহাবাদ আদালতের নির্দেশের পরেও বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে মুক্তি দেওয়া হয়নি তাঁকে। তারপরে এলাহাবাদ আদালতে অবমাননার অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দেয় তার পরিবার। পরিবারের এই অভিযোগের পরে মাঝরাতে তাঁকে জেল থেকে ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ছেলের মুক্তির পরে কাফিল খানের মা নুঝাত পারভীন জানিয়েছেন, “আমি খুব খুশি যে আমার ছেলে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমি ওকে এবার দেখতে পাব, ওকে ছুঁতে পারব, অনুভব করতে পারব। আমার ছেলে খুব ভাল। ও কোনও দিন দেশ ও সমাজের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। আজ আমার পুত্রবধূর জন্মদিন। ও মথুরাতে আছে। তাই আমরা কেক নিয়ে যাচ্ছি।”
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ-র বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে গত ২৯ জানুয়ারি মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাফিল খানকে। মুম্বইতে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ-আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কাফিল। মুম্বই পুলিশের সহযোগিতায় বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হয়। জামিন মঞ্জুর হলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলবন্দি রাখা যায়।
ইতিমধ্যেই কাফিলের মুক্তির দাবিতে আওয়াজ উঠেছিল। অনেকের বক্তব্য ছিল, বিরোধী স্বর দমিয়ে রাখতেই উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার এই আইন প্রয়োগ করেছে কাফিলের উপর।
মঙ্গলবার এলাহাবাদ আদালত বলে, কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা করা বেআইনি হয়েছে। ওই চিকিৎসকের বক্তৃতায় কোনও ঘৃণা বা হিংসা ছিল না। তিনি কেবল নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। কিছু ছাত্রছাত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক ভাবে কাফিল খানের বক্তৃতা শুনে কখনই মনে হয়নি তাঁর বক্তৃতায় ঘৃণা বা হিংসাত্মক কিছু রয়েছে। তা ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি লঙ্ঘন করার মতোও তিনি কিছু বলেননি।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর (এনআরসি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন আলিগড়ের পড়ুয়ারা। বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশ প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান। আটক করা হয় কয়েকশ বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে। অভিযোগ এই বিক্ষোভের সময় সেখানে হাজির ছিলেন ডাক্তার কাফিল খান। ধর্মীয় উস্কানিমূলক এমন কিছু কথা নাকি তিনি বলেন, যাতে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। ১৩ ডিসেম্বর এফআইআর করা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।