দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ঠেকাতে কৌশলে বদল করল স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বুধবার সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা জানিয়ে দিলেন, হটস্পট এলাকায় এবার আরও আগ্রাসী ভূমিকা নিতে হবে। হটস্পট এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি যাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। কারও শরীরে জ্বর, সর্দি বা কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখতে পেলে তাঁর তৎক্ষণাৎ নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। এই টেস্ট বিনামূল্যে করানো হবে।
এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেন, আগের কৌশল অব্যাহত রাখলে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্য সফল হবে না। এর পূর্ণ সুযোগ নিতে হবে। তাঁর কথায় গোটা দেশের সব জেলাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। হটস্পট জেলা, নন হটস্পট জেলা এবং গ্রিন জোন।
হটস্পট জেলা কোনগুলো?
লব আগরওয়াল বলেন, যে জেলাগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি, সেগুলিকে হটস্পট জেলা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত হিসাব মতো দেশে হটস্পট জেলা রয়েছে ১৭০ টি.। নন হটস্পট জেলা অর্থাৎ যেখানে বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকজনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে কিন্তু তা ছড়ানোর হার খুবই কম। তেমন জেলা রয়েছে ২৭০ টি। দেশের বাকি জেলাগুলি স্বাভাবিক ভাবেই গ্রিন জোন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ওই যুগ্ম সচিব জানান, হটস্পট জেলাগুলিতে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে। ওই জেলায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বেরনোও পুরোপুরি ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। তার পর বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উপসর্গ দেখা মাত্রই নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
শুধু তা নয়, কনটেইনমেন্ট জোনের বাইরেও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ বা তীব্র শ্বাসকষ্টের উপসর্গ কারও মধ্যে ধরা পড়লে তাঁদেরও বাধ্যতামূলক নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
লব আগরওয়াল আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিন রকমের স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে রেডি করে রাখতে বলা হয়েছে—কোভিড কেয়ার, কোভিড হেল্থকেয়ার এবং কোভিড হাসপাতাল। কারও শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হলেও উপসর্গ মৃদু হলে তাঁকে কোভিড কেয়ারে রাখা হবে। কারও উপসর্গ মাঝারি হলে এবং অক্সিজেনের সাপোর্ট প্রয়োজন হলে তাঁকে কোভিড হেল্থকেয়ারে রাখা হবে। আর কারও শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হলে তাঁকে কোভিড হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা হবে।
ক্যাবিনেট সচিব এদিন সব রাজ্যকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা প্রোটোকল গোটা দেশে অভিন্ন হবে। কারও যদি এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন থাকে তাহলে এইমসের কলসেন্টারে ফোন করে জেনে নিতে পারেন।