দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও হাসপাতালগুলির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সামগ্রী অর্থাৎ ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সিলিন্ডার, পিপিই কিট, মাস্ক, টেস্ট কিটের অভাব রয়েছে। কেন্দ্রের তরফে বারবার বলা হয়েছে, এই মেডিক্যাল সামগ্রী যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে এইসব সামগ্রীর চাহিদা কতটা ও সরকারের কাছে তা কী পরিমাণে রয়েছে, তার হিসেব দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এমপাওয়ার্ড গ্রুপ ৩-এর চেয়ারম্যান। তিনি এই মুহূর্তে ভারতে কোভিড মোকাবিলায় মেডিক্যাল সামগ্রীর চাহিদা ও যোগানের বিবরণ দেন।
ভেন্টিলেটর- এপ্রিল, মে ও জুন মাসে এর চাহিদা ৭৫০০০। বর্তমানে সরকারের কাছে রয়েছে ১৯৩৯৮। অর্ডার দেওয়া হয়েছে ৬০৮৮৪। তার মধ্যে ৫৯৮৮৪ ভেন্টিলেটর তৈরি করবে ৭টি দেশীয় কোম্পানি। বিদেশে অর্ডার দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০০০। ইতিমধ্যেই চারটি কোম্পানির প্রথম লটের ভেন্টিলেটর চলে এসেছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই নতুন ভেন্টিলেটর কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে তার প্রশিক্ষন দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
অক্সিজেন সিলিন্ডার- ভারতে এই মুহূর্তে ৬৪০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। মেডিক্যাল পরিষেবায় দরকার হয় ১০০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন। ৫টি বড় কোম্পানি ও ৬০০টি ছোট কোম্পানিকে এই অক্সিজেন উৎপাদন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০৯টি হাসপাতাল নিজেরাই অক্সিজেন উৎপাদন করে থাকে। ৪৩৮০০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার এই মুহূর্তে রয়েছে। আরও ১০৩০০০ সিলিন্ডারের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
পিপিই কিট- এই মুহূর্তে দেশে ২ কোটি পিপিই কিটের চাহিদা রয়েছে। কেন্দ্রের তরফে ২ কোটি ২২ লক্ষ কিটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৪২ কোটি কিট দেশীয় কোম্পানি তৈরি করবে। প্রতিদিন বর্তমানে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কিট তৈরি হচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশে ১১১টি কোম্পানি এই কিট তৈরির কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ২১ লক্ষ কিট সরকারের কাছে চলে এসেছে। সেই কিট প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।
এন৯৫/ এন৯৯ মাস্ক- মাস্কের চাহিদা ২ কোটি ৭২ লক্ষ। ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৪৯ লক্ষ মাস্কের অর্ডার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার কিট দেশীয় কোম্পানি তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ মাস্ক এসে গিয়েছে। তা বিভিন্ন রাজ্যকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ২ লক্ষ ৩০ হাজার মাস্ক তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৬টি কোম্পানি এই মাস্ক তৈরি করছে। আরও ৭টি কোম্পানি কাজ শুরু করবে।
আরটি পিসিআর টেস্ট কিট- এই মুহুর্টে দেশে ৩৫ লক্ষ আরটি পিসিআর কিট প্রয়োজন। তার মধ্যে ২১ লক্ষ ৩৫ হাজার কিটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার কিট চলে এসেছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যকে সেই কিট সরবরাহ করছে।
এছাড়া হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো ড্রাগ ও অন্যান্য ওষুধ প্রয়োজনের থেকে বেশি পরিমাণে দেশে রয়েছে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।