ভারতে করোনায় মৃত্যুহার বিশ্বে সবথেকে কম, ডাবলিং রেটও বেড়েছে: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। কিন্তু আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার হার অনেকটাই বেশি বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এমনকি ভারতে করোনায় মৃত্যুর হার বিশ্বে সবথেকে কম বলেই দাবি করলেন ত
শেষ আপডেট: 3 May 2020 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। কিন্তু আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার হার অনেকটাই বেশি বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এমনকি ভারতে করোনায় মৃত্যুর হার বিশ্বে সবথেকে কম বলেই দাবি করলেন তিনি। সেইসঙ্গে আক্রান্তের ডাবলিং রেট দিন দিন বাড়ছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার সংবাদসংস্থা এএনআইকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এখনও অবধি ১০ হাজারেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এখনও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই মুহূর্তে দেশে ডাবলিং রেট ১২ দিন। এই ডাবলিং রেট ১৪ দিন আগেও ছিল ১০.৫ দিন। করোনায় আমাদের দেশে মৃত্যুর হার ৩.২ শতাংশ, যা গোটা বিশ্বে সবথেকে কম।”
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী রবিবার, ৩ মে, সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৯৮০। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩০১ জনের। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৬৩৩ জন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ২৮০৪৬।
গোটা বিশ্বের পরিসংখ্যান দেখলে অবশ্য এটা পরিষ্কার ভারতে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম।
আমেরিকার জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, বিভিন্ন দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই মৃত্যুর হার বিভিন্ন। সাধারণত মৃত্যুর মোট সংখ্যা ও আক্রান্তের মোট সংখ্যার হিসেবে মৃত্যুহার হিসেব করা হয়। কিন্তু অনেক দেশে টেস্টিং অনেক বেশি হচ্ছে। ফলে অনেক কম উপসর্গ যুক্ত ব্যক্তিও ধরা পড়ছেন। তার ফলে সেখানে মৃত্যুর হার কম হচ্ছে। আবার অনেক দেশে আক্রান্তই কম ধরা পড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে সেখানে মৃত্যুর হার স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে। তাই মৃত্যুর হার কম মানেই মৃত্যুর মোট সংখ্যা কম সেটা কখনওই নয়।
তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে মৃত্যুহার সবথেকে বেশি বেলজিয়ামে। সেখানে ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার। অর্থাৎ এই দেশের মৃত্যুর হার ১৫ শতাংশ। কিন্তু এর থেকে বেশি মৃত্যু হয়েও অনেক দেশের মৃত্যুর হার অনেকটাই কম। কারণ, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে একটি ডায়াগ্রাম দিয়ে বোঝানো হয়েছে, ১০ লক্ষ টেস্টের পরে বিশ্বের প্রধান কয়েকটি দেশের আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে ভারত কোথায় রয়েছে। আমেরিকায় ১০ লক্ষ টেস্ট হওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬৪৬২০। জার্মানি, স্পেন, তুরস্ক ও ইতালিতে সংখ্যাটা ছিল যথাক্রমে ৭৩৫২২, ২০০১৯৪, ১১৭৫৮৯ ও ১৫২২৭১। সেখানে ১০ লক্ষ টেস্ট হওয়ার পরে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৯৮০।

এই পরিসংখ্যান দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রক বোঝাতে চেয়েছে প্রথম বিশ্বের উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতের আক্রান্তের হার অনেকটাই কম। অর্থাৎ করোনা মোকাবিলায় সরকার ঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে দাবি তাদের।