দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পেগাসাস প্রশ্নে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যে রাজ্যে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তার পর বিষ্যুদবার রাজ্যসভায় এ নিয়ে ধুন্ধুমার করল তৃণমূল।
গতকালই জানা গিয়েছিল, পেগাসাস বিতর্ক নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সরকারের বক্তব্য জানাবেন নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ। কিন্তু বৈষ্ণ বিবৃতি পড়ারই সুযোগ পাননি। তিনি উঠে দাঁড়াতেই বিরোধীরা ওয়েলে নেমে পড়েন। তার পর সেই হট্টগোলের মধ্যে তৃণমূলের এক সাংসদ মন্ত্রীর বিবৃতি কেড়ে নেন। তার পর তা ছিঁড়ে ডেপুটে চেয়ারম্যানের আসনের দিকে ছুড়ে দেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আগামী কাল পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংসদের বাদল অধিবেশন প্রথম দিন থেকেই অগ্নিগর্ভ। উচ্চকক্ষে একদিন ১২টা এবং একদিন দুটো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছিল। আজ যা পরিস্থিতি হয় তাতে একেবারে আগামী কাল পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তৃণমূল নয়। ওয়েলে নেমে প্রবল হট্টগোলে শামিল হন অন্য বিরোধী দলের সাংসদরাও। এমনকি সদ্য এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসা পাঞ্জাবের শিরোমণি আকালি দলও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু বলেছেন, বিরধীদের আচরণ, হাবভাব দেখে তো মনে হচ্ছে না তাঁরা আলোচনা চান। তাঁরা কেবল বিশৃঙ্খলাকেই জিইয়ে রাখতে চাইছেন।
পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, কোভিড পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশন যে এবার উত্তপ্ত হবে তা জানাই ছিল। কিন্তু অধিবেশন শুরুর আগের রাতেই সামনে আসে পেগাসাস কাণ্ড। যা কার্যত আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। তবে বিরোধীরা প্রথম দিন থেকেই সরকারের বক্তব্য দাবি করছিল। দেখা গেল এদিন যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংসদের উচ্চকক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন তখন তাঁর থেকে বিবৃতিপত্র ছিঁড়ে ফেলা হল।
অতীতে এমন কাগজ ছিঁড়ে তা অধ্যক্ষের দিকে ছোড়ার ঘটনা দেখেছিল লোকসভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বাংলার বিরোধী নেত্রী তথা লোকসভার সাংসদ। সেই সময়ে বাংলায় বেআইনি অনুপ্রবেশের তালিকা ছুড়ে এনআরসি-র দাবি তুলেছিলেন মমতা। মোদী সরকারের সময়ে যখন তৃণমূলনেত্রী এনআরসি, সিএএ-এর বিরধিতা করছেন তখন বিজেপির তরফে বারবার ওই ফুটেজ ছড়িয়ে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল 'দ্বিচারিতা'র কথা। আবার সেই কাগজ ছেঁড়ার ঘটনা ঘটল। তবে এবার রাজ্যসভায়। নাম জড়াল তৃণমূল সাংসদের।