দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আতঙ্কের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নিল রেলমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ২৫ মার্চ পর্যন্ত ভারতে সব ট্রেন বাতিল করা হচ্ছে।
রেলমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। কারণ গত কয়েক দিন এমন অনেকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যাঁদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁরা ট্রেনে যাতায়াত করছেন। যেহেতু ট্রেনে একসঙ্গে অনেক যাত্রী থাকেন, তাই এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা যাতে না হয়, তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।
ওই আধিকারিকের কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা জনতা কার্ফু উপলক্ষ্যে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশজুড়ে সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এমনিই বন্ধ থাকছে। সেই সময়টাকেই বুধবার পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। শিগগির এই ব্যাপারে লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবারই জানা যায়, কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়ে এক দম্পতি উঠেছিলেন রাজধানী এক্সপ্রেসে। সহযাত্রীরা তাঁদের কথা টিটিকে জানিয়ে দেন। রেলমন্ত্রক জানায়, মার্চের ১৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত অন্তত ১২ জন ট্রেনে সফর করেছেন।
এরপরেই টুইট করে জনগণের উদ্দেশে রেলমন্ত্রক আবেদন জানায়, সব ধরনের যাত্রা আপাতত বন্ধ রাখুন। কারণ কোভিড-১৯ রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। রেল থেকে টুইট করে বলা হয়, “আমরা জানতে পেরেছি, কয়েকজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন। তাঁদের জন্য ট্রেনযাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আমরা জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ট্রেনযাত্রা এড়িয়ে চলুন। আপনার সহযাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের থেকে আপনারও ওই রোগ হতে পারে।” শেষে ফের বলা হয়, “সব ধরনের ট্রেনযাত্রা বন্ধ রাখুন। আপনি নিজে নিরাপদ থাকুন। প্রিয়জনদের নিরাপদে রাখুন।”
অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন বাংলার বাইরে অন্য শহরে থাকা এমনই বাঙালিদের নিয়ে শনিবার রাত থেকে কমবেশি আটটি স্পেশাল ট্রেন ঢুকছে রাজ্যে। এদিন রাত থেকে শুরু করে সোমবার সকাল সাতটা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই ট্রেনগুলি শিয়ালদহ, হাওড়ায় এসে পৌঁছবে। ওই আটটি ট্রেন শিয়ালদহ ও হাওড়ার বাইরে কোন কোন স্টেশনে কখন থামবে তার সূচি রাজ্য সরকারকে দিয়েছে রেল। বিশেষ দরকারে চালানো হচ্ছে এই ট্রেনগুলি।
বর্তমানে ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৪। তার মধ্যে ২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছে একাধিক রাজ্য। কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রেলমন্ত্রকও। তাই এই মুহূর্তে আরও তিনদিন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে তারা।