দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় বে-আইনিভাবে থাকার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩০ জন পড়ুয়াকে। এদের মধ্যে ১২৯ জন ভারতীয় পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। এই পড়ুয়াদের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করেছে বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এটাই এখন তাঁদের কাছে সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজ।
জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন বুধবার গোপনে ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারমিংটন হিলস-এর এক ক্যাম্পাসে হানা দেন। সেখানে গিয়েই তাঁরা জানতে পারেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভুয়ো। এখানে নথিভুক্ত থাকা ১৩০ জন পড়ুয়াকে নিউ জার্সি, আটলান্টা, মিশিগান, হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, সেন্ট লুইস প্রভৃতি বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পড়ুয়ারা দাবি করছেন, না জেনেই এই ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁদে পা বাড়িয়েছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছিল, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করতে পারবেন তাঁরা। তারফলেই আরও বেশি করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন পড়ুয়ারা, এমনটাই দাবি করেছেন পড়ুয়াদের আইনজীবী।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, সব কিছু জেনে শুনেই ওই ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন এই পড়ুয়ারা। প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এলেও তারপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় কাজে যোগ দেন, যা বে-আইনি। এই ঘটনাকে 'পে অ্যান্ড স্টে' কেলেঙ্কারি নাম দেওয়া হয়েছে।
এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রতিটি পড়ুয়াকে আপাতত জামিনে ছাড়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের শরীরে নাকি ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এও বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে না বেরাতে। যখনই ডাকা হবে, হাজিরা দিতে হবে তাঁদের।
এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন সুষমা স্বরাজের বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাবিশ কুমার জানিয়েছেন, "এই ঘটনায় আমরা খুব উদ্বিগ্ন। আমরা ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছি। আমেরিকায় যে বিভিন্ন ভারতীয় কমিউনিটি রয়েছে, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেখানে আটকে পড়া পড়ুয়াদের জন্য যা করা সম্ভব, আমরা করব।"
রাবিশ কুমার আরও জানিয়েছেন, "মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের তরফে তাঁদের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া খুব সাবধানে দেখা হয়। প্রতিটি পড়ুয়া এক ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের জালে ফেঁসে গিয়েছিলেন। আর তাই তাঁদের সেই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা আমাদের প্রাথমিক কাজ।"
ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে ২৪X৭ একটি পরিষেবা খোলা হয়েছে। যে কোনও পড়ুয়ার সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য ( +১ ) ২০২-৩২২-১১৯০ এবং ( +১ ) ২০২-৩৪০-২৫৯০ এই দুটি নম্বর খোলা হয়েছে। এই নম্বরে ফোন করলেই সব তথ্য জানা যাবে। এছাড়াও একটি ই-মেল অ্যাড্রেসও দেওয়া হয়েছে। এখানেও পড়ুয়াদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারবেন তাঁদের পরিবারের লোকেরা।
https://twitter.com/MEAIndia/status/1091538300374966272