দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিন কয়েক আগে লোকসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ছ'মাসের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরে নির্বাচন হবে। এ বার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে ফের জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বললেন, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমেই ভালো হচ্ছে। এই রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। এমন দিন আসতে চলেছে, যখন কাশ্মীরে সুফি ও পণ্ডিতদের একসঙ্গে দেখা যাবে।
লোকসভায় ইতিমধ্যেই ভোটের আগে আরও ছ'মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকার জন্য আবেদন জানিয়ে বিল এনেছিল কেন্দ্র। আনা হয়েছিল এই রাজ্যের সংরক্ষণ বিলও। দুটি বিলই পাস হয়েছে সেখানে। আর তারপরে এই দুই বিল এ দিন রাজ্যসভায় প্রস্তাব করেন শাহ।
নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, "জম্মু-কাশ্মীর দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং এই অঙ্গ কেউ ভারত থেকে আলাদা করতে পারবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদী সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। জম্মু-কাশ্মীরের উন্নতির জন্য এই সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা কাশ্মীরিয়ত, জামুরিয়ত ও ইনসানিয়তের আদর্শে এগোচ্ছি।"
তবে কোনও রকমের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেই রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "যারা ভারতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে তারা সেই ভাষাতেই উত্তর পাবে। কাশ্মীরি পণ্ডিতরা কেন কাশ্মীর ছেড়ে চলে এলেন? সুফিদের কেন মারা হচ্ছে? সুফিরা ঐক্যের কথা বলতেন। একটা সময় আসবে যখন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা প্রার্থনা করবেন ও তাঁদের পাশেই সুফিদের দেখা যাবে।"
২০১৮ সালের জুন মাসে মেহবুবা মুফতি সরকারের পাশ থেকে বিজেপি সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। পুলওয়ামাতে সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার পর কাশ্মীরের অভ্যন্তরীন অবস্থার কথা বিচার করে ভোট করা সম্ভব হয়নি। তবে অনন্তনাগ লোকসভা আসনে ভোট হয়েছে। আর দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পরেই ছ'মাসের মধ্যে কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তবে ততদিন সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকবে।