দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাঁচটা দিনের মতোই ডিউটিতে ছিলেন বছর ২৩-এর বনরক্ষী সোহন সিং। চেনা জঙ্গলের মধ্যেই যে তাঁর জন্য মরণফাঁদ পাতা রয়েছে, বুঝতে পারেননি ঘুণাক্ষরেও। আচমকাই সামনে এসে পড়ে তাগড়াই একটা বাঘ। মুহূর্তেই সব শেষ। কেঁদো বাঘের এক থাবায় নিমেষেই শেষ হয়ে যায় একটা তাজা প্রাণ। ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সোহন সিং। সোমবার সোহন সিংয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছেন বনদফতরের কর্মীরা। করবেট রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর রাহুল জানিয়েছেন, সোহনের পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
কুমায়ুন রিজিয়নের অন্যতম ত্রাস এই বাঘেরা। 'বিগ ক্যাটস'-দের দাপটে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন এলাকাবাসী। আতঙ্কে থাকেন বনদফতরের কর্মী-আধিকারিকরাও। তবে চলতি বছরে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। বাঘের শিকার হয়েছেন আরও অনেকেই। গত এপ্রিল মাসে চিতাবাঘের হানায় মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছিলেন ২৩ বছরের তরুণী উমা আর্য। নৈনিতালের সাউথ গৌলা ফরেস্ট রেঞ্জের ওখালকান্ডা এলাকায় ঘটেছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা। শুনসান এলাকা পেয়েই উমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চিতাবাঘ। ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল তাঁকে।
গত বছর নভেম্বর মাসেও করেবেট টাইগার রিজার্ভের ভিতর বাঘের হানায় জখম হয়েছিলেন বছর কুড়ির এক তরুণ। সে বার হামলা করেছিল এক বাঘিনী। করবেট রিজার্ভের ধিকালা জোনে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নৈনিতালের একটি জঙ্গলে বছর ৪০-এর এক ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন বাঘের থাবায়। ওই একই মাসে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল চিতাবাঘ। পরে উদ্ধার হয় তার ক্ষতবিক্ষত দেহ। নৈনিতালের গারুদ এলাকায় ঘটেছিল এই ঘটনা।
বন্যপ্রাণের সঙ্গে মানুষের সংঘাত দিনদিন বেড়েই চলেছে। বেশ কিছু জায়গায় যেমন বাঘ কিংবা চিতাবাঘের শিকার হয়েছেন স্থানীয় মানুষ বা বনকর্মীরা, তেমনই মানুষের হাতেও নির্মম পরিণতি হয়েছে বাঘের। কোথাও পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে পূর্ণবয়স্ক বাঘকে। কোথাও বা মৃতপ্রায় অসহায় বাঘের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভিড় জমিয়েছেন জনতা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাঘ হত্যার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ মহারাষ্ট্রের অবনী। কেবলমাত্র মানুষের ত্রাস কাটাতেই নাকি পরিকল্পনা করে মেরে ফেলা হয়েছিল দুই সন্তানের মা এই বাঘিনীকে। পরে অবশ্য উঠে এসেছিল নানান তথ্য। প্রাথমিক ভাবে বলা হয়েছিল ১৪জন মানুষকে খেয়েছে অবনী। তবে মৃত্যুর পর অবনীর পেটে জল ছাড়া কিছুই পাননি চিকিৎসকরা। রিপোর্টে তাঁরা সাফ জানিয়েছিলেন, মারা যাওয়ার আগের সাত থেকে দশ দিন একেবারে অভুক্ত ছিল এই বাঘিনী।