দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। ছাড় পায়নি কাজিরাঙাও। এক শৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত এই জাতীয় উদ্যানে গত কয়েকদিনে ৩০টি পশুর মৃত্যু হয়েছে। জলের ভয়ে ক্রমেই বসতি এলাকার কাছে চলে আসছে জন্তুরা। আর এই পরিস্থিতিতেই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সম্মুখীন হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি কাজিরাঙা লাগোয়া ন্যাশনাল হাইওয়ের পাশে যে বসতি রয়েছে সেখানেই একটা বাড়িতে এক বড়সড় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে ঢুকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাগ্য ভালো বাড়ির মালিক তখন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ফিরলে সবাই সতর্ক করে দেন তাঁকে। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। বন দফতরের কর্মীরা এসে ড্রোন দিয়ে বাঘের সঠিক অবস্থান দেখতে গিয়েই এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখেন।
বাড়ির দেওয়ালের একটি ফুটো দিয়ে দেখা যায়, বেডরুমে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে বাঘ বাবাজি। শুধু তাই নয়, একেবারে বিছানায় আয়েশ করে শুয়ে আছে সে। ভাবখানা এমন, যে জল না নামা অবধি এখানেই হাত-পা ছড়িয়ে কাটিয়ে দেব। আর বাঘমামার এমন কাণ্ডকারখানা দেখেই উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
https://twitter.com/wti_org_india/status/1151740917696487425
এই ছবি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট ইন্ডিয়া। আর এই ছবি দেখার পরেই কমেন্টের বন্যা সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ বলছেন, আহারে এতদিন ধরে জলের মধ্যে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে বেচারা। তাই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ বলেছেন, দেখে বোঝাই যাচ্ছে, কতখানি ক্লান্ত সে। খেতেও হয়তো পায়নি অনেকদিন। তাই আশায় আছে, বাড়িতে যদি তাকে কেউ খাবার দেয়। কেউ আবার বন্যা পরিস্থিতিতে জন্তুদের বাঁচানোর উপায়ও বাতলে ফেলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের উচিত, বন্যার সময় বন্য জন্তুদের অন্য কোথাও রাখার জন্য আগে থেকেই ঘর বানিয়ে রাখা। তাহলে এই সমস্যার সামনে পড়তে হয় না।
বন দফতরের কর্মীরা অবশ্য ঘুম পাড়ানি গুলি ছুঁড়ে বাঘটিকে অজ্ঞান করে তারপর তার শারীরিক পরীক্ষা করে দেখার কথা ভেবেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে বাগে আনা সম্ভব হয়নি। নিজেদের চেষ্টা অবশ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বনকর্মীরা। .