
শেষ আপডেট: 6 March 2019 12:48
রয়টার্সের বিশ্লেষণ [/caption]
শুধু তাই নয়, রয়টার্সের দাবি, এই ঘটনার পর দু'দিন ওই এলাকায় নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে তারা। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধিরা জানতে পেরেছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ওই এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেগুলি সবই হয়েছিল জঙ্গলের মধ্যে। চারটি গর্তও নাকি গ্রামবাসীরা দেখিয়েছেন প্রতিনিধিদের। এমনকী এই বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা।
দ্য প্রিন্ট: প্রিন্ট আবার একই উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্সের থেকে কিছুটা আলাদা সিদ্ধান্তে এসেছে। প্রিন্ট দাবি করেছে, সে রাতে বিস্ফোরণ হয়েছিল। এই বিস্ফোরণের ফলে প্রধান বিল্ডিং অর্থাৎ জইশ ঘাঁটির উপর চারটি কালো স্পট দেখা গিয়েছে। এই স্পটগুলিকে চিহ্নিত করে প্রিন্টের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনার ছোড়া মিসাইলের প্রভাবেই এই গর্তগুলি হয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানের তরফে যে দাবি করা হচ্ছে, হামলায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তা ঠিক নয়। তবে বিস্ফোরণের ফলে কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি প্রিন্ট।
[caption id="attachment_84892" align="aligncenter" width="773"]
দ্য প্রিন্ট-এর বিশ্লেষণ [/caption]
এছাড়া প্রিন্টের আরও দাবি, যে এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবু ছিল, সেখানেও বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সেদিন যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তা নিশ্চিত।
টাইমস নাও: রয়টার্সের দাবিকে খারিজ করে একদম উল্টো দাবি টাইমস নাও-এর। তাদের তরফে এই উপগ্রহ চিত্রকে আরও কাছ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, উপগ্রহ চিত্রে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি গর্ত রয়েছে মূল প্রশিক্ষণ শিবিরের ছাদে। এই গর্ত ভারতীয় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া মিসাইলের ফলে হয়েছে বলেই দাবি তাদের। আরও বলা হয়েছে, এই হামলায় স্পাইস ২০০০ গ্লাইড বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বোমার নিয়মই হচ্ছে, যেখানে পড়ে, সেখান থেকে গর্ত করে ভেতরে ঢোকে। অর্থাৎ দোতলা বিল্ডিংয়ের ছাদে পড়ে গর্ত করে তা নীচে গিয়ে বিস্ফোরণ করেছে, এমনটাই দাবি টাইমস নাও-এর। আর সে জন্যই হয়তো বিল্ডিংটি ভেঙে পড়েনি। তবে ভিতরে ঢুকলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির আসল পরিমাণ বোঝা যাবে।
https://twitter.com/TimesNow/status/1103249443594264576
টাইমস নাও-এর বিশ্লেষণ
এই তিন ধরণের বিশ্লেষণকে হাতিয়ার করে নিজেদের বক্তব্য সাজাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিও। কেউ প্রশ্ন তুলছে, বিস্ফোরণে কত জঙ্গি নিহত হয়েছে, তার প্রমাণ কই? আবার কেউ এই সন্দিগ্ধ মহলকে 'দেশদ্রোহী' তকমা দিয়ে দাবি করছে, সময় হলেই নিহতের প্রকৃত সংখ্যা বিশদে ও নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। থিওরি-কাউন্টার থিওরির এই আবহে আপনি কার বিশ্নেষণ ও পর্যবেক্ষণকে বিশ্বাস করবেন, সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।