দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে জম্মু কাশ্মীরের অনন্তনাগে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে। সোমবার ভোরে এই এনকাউন্টার শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের তরফে হতাহতের কোনও খবর নেই।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে গোপন সূত্রে নিরাপত্তারক্ষীরা খবর পান, অনন্তনাগে কিছু জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ভোর রাতেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেন তাঁরা। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখতে পেয়েই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। শুরু হয় এনকাউন্টার।
সূত্রের খবর, অনন্তনাগের খুলচোহার এলাকায় হয় এই এনকাউন্টার। একটি বাড়িতে জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল। বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন জওয়ানরা। বেশ কিছুক্ষণের গুলি বিনিময়ের পরে তিন জঙ্গিই খতম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিন জঙ্গির কাছে একে ৪৭ বন্দুক ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত উদ্ধার হয়েছে। তারা কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর তা এখনও জানা যায়নি।
জানা গিয়েছে, এখনও ওই এলাকায় কিছু জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। তাই এখনও মাঝেমধ্যেই গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এখনও চলছে তল্লাশি অভিযান। আরও অনেক নিরাপত্তারক্ষী এই এনকাউন্টারে যোগ দিয়েছেন বলে খবর।
এর আগে গত শুক্রবার এই অনন্তনাগেই জঙ্গি হানায় এক সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। মৃত্যু হয় এক পাঁচ বছরের শিশুর। অনন্তনাগের বিজবেহরা এলাকায় হাইওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সিআরপিএফের একটি বাহিনী। তাদেরকেই নিশানা বানায় মোটরসাইকেলে চড়ে আসা জঙ্গিরা। বেলা বারোটা নাগাদ হাইওয়ের উপর পেট্রোলিং করছিল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফের ৯০ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। আচমকাই হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলি লাগে এক জওয়ান এবং ওই শিশুর। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকেই বিজবেহরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
অন্যদিকে শুক্রবার সকালেই দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে এনকাউন্টারে খতম হয় তিন জঙ্গি। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল ত্রালে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে অভিযান। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ, সেনাবাহিনীর ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর যৌথ অভিযানের শেষে খতম হয় তিনজন জঙ্গি। নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানানো হয় আহত হয়েছেন দু’জন সেনা জওয়ানও।
সেনার তরফে জানানো হয়েছে জুন মাসে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কাশ্মীরে ১৩টি এনকাউন্টার হয়েছে। খতম হয়েছে ৩৬ জন জঙ্গি।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিং জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকাতে চাইছে পাকিস্তান। তাঁর কথায় গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে পুঞ্চ এবং রাজৌরি সেক্টর দিয়ে উপত্যকায় জঙ্গি ঢোকাতে চাইছে হিজবুল, জইশ এবং লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠন। এ কাজে পাকিস্তান সরাসরি তাদের সাহায্য করছে বলেও দাবি করেছেন দিলবাগ সিং। মূলত নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা চালানোর এদের পরিকল্পনা। তবে নিরাপত্তারক্ষীরাও সব হামলার জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।