দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় নাগরিকত্ব বিলের সমর্থনে ভোট দিয়েছিল শিবসেনা। কিন্তু বুধবার সেই সেনার গলাতেই অন্য সুর। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোনও কোনও দল এমন সব কথাবার্তা বলছে, যাদের সুর একেবারে পাকিস্তানের মতো।” প্রধানমন্ত্রীর এই কথাকে ধরেই রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিতর্কে শিবসেনা সাংসদ বলেন, “আমরা এই এদেশের নাগরিক। মানুষই আমাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। এটা পাকিস্তানের অ্যাসেম্বলি নয়।”
বিজেপির তরফে বলা হয়েছিল, “যারা এই বিলকে সমর্থন করবে না, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থেকে যাবে।” ঘুরিয়ে শিবসেনার তরফে বলা হয়, “কে কতটা দেশপ্রেমিক, সেই সার্টিফিকেট বিজেপির থেকে আমাদের নিতে হবে না।” পড়শি দেশ থেকে আসা হিন্দু নাগরিকদের কোনও চিন্তা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সঞ্জয় রাউত বলেন, “আমরা কতটা কট্টর হিন্দুত্ববাদী সেটা সবাই জানে। কিন্তু প্রশ্ন হল মানুষের মধ্যে এত আতঙ্ক কেন? কেন আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্বে? কেন অশান্ত অসম, মণিপুর, ত্রিপুরা? সেনা নামাতে হচ্ছে, ইন্টারনেট বন্ধ করতে হচ্ছে। এটা কি স্বাভাবিক পরিস্থিতির লক্ষণ?”
সবেমাত্র মহারাষ্ট্র পর্ব কেটেছে। বিজেপির সঙ্গে বিচ্ছেদ করে কংগ্রেস এনসিপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে সেনা। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের ছেলে উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু তারপরও বিজেপির পক্ষে লোকসভায় ভোট দেওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা ছিল, হিন্দুত্বের লাইন মেনেই বিলকে সমর্থন করেছে শিবসেনা। কিন্তু লোকসভায় যেমন বিজেপির পক্ষে পাটিগণিতটা সহজ, রাজ্যসভায় ততটা নয়। এনডিএ-র সমর্থন না পেলে উচ্চকক্ষে বিল পাশ করানো মুশকিল মোদী-শাহের। কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই সুর বদলাতে শুরু করে শিবসেনা। রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে শিবসেনা বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। সেই সময়ে মোদীর উদ্দেশে সঞ্জয় রাউত এমন তির্যক বাক্যবাণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।