দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরগরম এজলাস। আর তাতে নাটকীয় শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে বম্বে আইআইটি। একইসঙ্গে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের ধমকে দিশেহারা অবস্থা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটার।
কী মামলা?
দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি 'স্মগ টাওয়ার' বসানো হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে সেই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এমওইউ স্বাক্ষর করেছিল টাটা প্রোজেক্টস লিমিটেড এবং বম্বে আইআইটির সঙ্গে। কিন্তু বম্বে আইআইটি এখন সেই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে চাইছে বলে অভিযোগ। ফলে আটকে গিয়েছে স্মগ টাওয়ার নির্মাণের কাজ। চুক্তির ছ’মাস পর কী ভাবে পিছু হটতে চাইছে আইআইটির মতো ইউনিভার্সিটি, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতে যায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। সেই শুনানিতেই এদিন বম্বে আইআইটিকে তুমুল ভর্ৎসনা করল শীর্ষ আদালত।
মামলার শুরুতেই বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, “আমি এই সমস্ত ‘ননসেন্স’ জিনিস বরদাস্ত করব না। বম্বে আইআইটিকে শাস্তি পেতে হবে। কী করে তারা ছ’মাস পর পিছিয়ে আসছে? সরকারি প্রকল্প থেকে তারা কী ভাবে পিছিয়ে আসার স্পর্ধা দেখাতে পারে? আমি ওদের বিরুদ্ধে আলাদা করে মামলা রুজু করব।”
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, বিচারপতি অরুণ মিশ্র এদিন উত্তেজনা প্রশমন করতে পারেননি। ক্রুদ্ধ বিচারপতি এরপর ধমক দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটাকেও। এসজি-র উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “এর আগে এ নিয়ে বম্বে আইআইটিকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলাম। তা দেয়নি কেন ওরা? আপনি কী করছেন? আপনি কি ওদের আড়াল করতে চাইছেন?” এখানেই থামেননি বিচারপতি মিশ্র। তিনি আরও বলেন, “শুনুন মিস্টার সলিসিটর জেনারেল। আপনাকে আমি আধ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। নাহ আধঘণ্টা সময় নয়, আপনাকে আমি ১৫ মিনিট সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে আপনি বম্বে আইআইটির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করুন। জিজ্ঞেস করুন ওরা কী চাইছে। জেনে আমাকে জানান। দিস ইজ টোটাল ননসেন্স। আপনাকে আমি ১৫ মিনিট সময় দিলাম। যান ফোন করুন ওদের।”
বিচারপতির এ হেন রূপ দেখে কিছুটা থতমতই খেয়ে যান তুষার মেটা। এরপর কার্যত কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বলেন, “আমি এটা ১৫ মিনিটের মধ্যে করতে পারব না। দয়া করে আমায় ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। এর মধ্যে বিশেষ কিছু পরিবর্তন হবে না। দয়া করে আপনি নিজেকে আমার জায়গায় বসিয়ে দেখুন। আমি জানিই না এখন ওদের দফতরে কেউ আছে না নেই।” পরে অবশ্য বিচারপতি ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।
গত ডিসেম্বরে স্মগ টাওয়ার নির্মাণের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট থেকেই ছাড়পত্র পেয়েছিল। দিল্লির কন্নট প্লেসে এই টাওয়ারটি নির্মাণ হচ্ছে। ১৮ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হবে এই টাওয়ার তৈরি করতে। মূলত দিল্লির দূষণ রোধে পরীক্ষামূলক ভাবে এই টাওয়ার তৈরি করছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। কার্যকরী হলে পরবর্তী কালে আরও এই ধরনের টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিন্তু একটি টাওয়ার নির্মাণ করতেই এত ঝঞ্ঝাট পোহাতে হচ্ছে। কবে এই কাজ শেষ হবে তাও কেউ হলফ করে বলতে পারছে না।