দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ দেশ এই সময় এই ভাইরাসের মোকাবিলায় ব্যস্ত। আর এই সময়টাই নাশকতামূলক কাজের জন্য আদর্শ জঙ্গিদের কাছে। এই করোনা সংক্রমণের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশে নাশকতা ছড়াতে পারে জঙ্গিরা, এমনটাই ধারণা রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান অ্যান্টোনিও গুটেরেসের। এমনকি হতে পারে বায়ো অ্যাটাকও। এই বিষয়ে সব দেশকে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার একটি রুদ্ধদার বৈঠকে বসেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি দেশগুলি। সেখানে করোনা সংক্রান্ত আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, সেখানেই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে একটি প্রজন্মের লড়াই বলে তুলনা করেন গুটেরেস।
এই বৈঠকে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান বলেন, “এই মুহূর্তে কোভিড ১৯-এর কবলে বিশ্ব। সব দেশ এই ভাইরাসের মোকাবিলায় ব্যস্ত। আর এই সময় বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা খুব কঠিন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছোট কারণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যা করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইতে বাধা দেবে।”
তারপরেই গুটেরেস বলেন, “এই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুযোগ নিতে পারে জঙ্গিরাও। বায়ো-টেররিস্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা আছে। জঙ্গিরা বুঝতে পেরেছে ভাইরাসের সংক্রমণে বিভিন্ন উন্নত দেশেরও কী অবস্থা হয়েছে। আর তাই ভাইরাস ব্যবহার করেও এই আক্রমণ চালাতে পারে তারা। আর এই মুহূর্তে যেহেতু সব দেশ নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, তাই এই সময় সীমান্তে সুরক্ষার কড়াকড়ি কম। তাই এই সময়েই বিভিন্ন দেশে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে জঙ্গিরা।”
এই ধরনের কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে তা যে মানবতার পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হবে সেটাই ধারণা অ্যান্টোনিও গুটেরেসের। তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে অশান্তি বাড়বে। এমনিতেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে। তার মধ্যে যদি কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটে, তাহলে শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট দেশ নয়, গোটা বিশ্বেই এর প্রভাব পড়বে।”
করোনা সংক্রমণের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান। তিনি বলেন, “এই সময়ে উস্কানিমূলক কথা খুবই খারাপ। ধর্মীয় উস্কানি ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ সব সদস্যের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, এই সময় অশান্তির নয়। এই সময় হল একসঙ্গে লড়াই করার। করোনা মোকাবিলা করার। তাই সব দেশকে অনুরোধ করা হচ্ছে, কোনও রকমের উস্কানিমূলক কথায় পা যাতে কেউ না দেয় ও নিজেদের দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার আছে কিনা সেদিকে নজর দেয়।”