ইকো-ফ্রেন্ডলি স্যানিটারি ন্যাপকিন, নিম-অ্যালোভেরা-ত্রিফলা দিয়েই মুশকিল আসান করছেন মাদুরাইয়ের কান্নামা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সভ্যতা পায়ে পায়ে একুশ শতকে পৌঁছে গেলেও এই সমাজে আজও পিরিয়ডস নিয়ে রয়েছে হাজারও ট্যাবু। গ্রামাঞ্চলের দিকে এখনও বহু জায়গায় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের চলই হয়নি। আর যেখানে হয়েছে সেখানে বাজার চলতি সিন্থেটিক স্যানিটারি ন্যাপকিন
শেষ আপডেট: 15 March 2020 03:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সভ্যতা পায়ে পায়ে একুশ শতকে পৌঁছে গেলেও এই সমাজে আজও পিরিয়ডস নিয়ে রয়েছে হাজারও ট্যাবু। গ্রামাঞ্চলের দিকে এখনও বহু জায়গায় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের চলই হয়নি। আর যেখানে হয়েছে সেখানে বাজার চলতি সিন্থেটিক স্যানিটারি ন্যাপকিনই ব্যবহার করে থাকেন মহিলার। এর ফলে অনেকসময় নানা ধরনের ইনফেকশন এবং র্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। যন্ত্রণাদায়ক হওয়ার পাশাপাশি এইসব সমস্যা সহজে মিটতেও চায় না।
গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের কথা মাথায় রেখেই তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানোর প্রচেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা টি কান্নামা। মেন্সট্রুয়াল হাইজিনের প্রচারের জন্যই এই ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাড বানান বলে জানিয়েছেন কান্নামা। তাঁর কথায়, “একদম সুতির সুতো দিয়েই তৈরি হয় এইসব স্যানিটারি ন্যাপকিন। মহিলাদের যাতে কোনওরকম শারীরিক সমস্যা না হয় সেজন্য একফোঁটা কেমিক্যালও এতে ব্যবহার করা হয় না।“ গত ৬ বছর ধরে এই কাজ করে চলেছেন মাদুরাইয়ের বাসিন্দা ৪২ বছরের টি কান্নামা।
ইকো-ফ্রেন্ডলি স্যানিটারি ন্যাপকিন বানাতে কী কী ব্যবহার করেন কান্নামা----
পাঁচজন সাধারণ মানুষ যেসব ভাবতেও পারেন না ঠিক সেই সমস্ত জিনিস দিয়েই এই ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাড বানিয়ে চলেছেন কান্নামা। নিম, অ্যালোভেরা আর ত্রিফলার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় কান্নামার স্যানিটারি ন্যাপকিন। হাইজিনের কথা মাথায় রেখে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে এইসব জিনিসের ব্যবহার করেন কান্নামা। তাঁর কথায়, “খাবার এবং জলের মতোই মহিলাদের জীবনে স্যানিটারি ন্যাপকিনও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তাই এক্ষেত্রে হাইজিন যেন ১০০ শতাংশ থাকে সেটা মাথায় রাখা সবসময় অবশ্যই দরকার।“

নানা ধরনের ভেষজ নিয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন কান্নামা। কী কী ব্যবহারের ফলে কতটা সুফল পাওয়া যাবে এই নিয়েই নিরন্তর চলছে তাঁর গবেষণা। তবে মেন্সট্রুয়াল হাইজিনের কথা ভেবে কেবল ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাড বানিয়েই থেকে থাকেননি এই মহিলা। গিয়েছেন বিভিন্ন স্কুলে। সেখানকার ছাত্রী এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। গ্রামের সাধারণ মহিলাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন কান্নামা। আর তাঁদের নিয়েই শুরু করেছেন এই কাজ। খুবই কম দামে তৈরি করেন ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাড, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মহিলারাও এই স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে ব্যবহার করতে পারেন।