দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রাণপাত করছেন স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মীরা। বারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় আক্রমণের মুখে পড়ছেন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা। এটা কোনওমতেই বরদাস্ত করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সব রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা হলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পূণ্য সলিল শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সব রাজ্যগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। আর যদি তাঁদের উপর হামলা হয় তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে সাতটি হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। আমরা আরও দুটি টোলফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছি। সেগুলি হল, ১৯৩০ ( গোটা দেশের জন্য ) ও ১৯৪৪ ( উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির জন্য )।”
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে করোনা আক্রান্তের সন্ধান করতে গেলে স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। এই পাথরের আঘাতে অনেকেই আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার ফের সেখানে গিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, হামলা হলেও নিজেদের কাজ তাঁরা চালিয়ে যাবেন।
এছাড়াও দিল্লির নিজামুদ্দিনের মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতের জমায়েতে অংশ নেওয়া ৬ করোনা আক্রান্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাঁরা নার্সদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেছে ও তাঁদের হেনস্থা করেছে বলে খবর। তাদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় ব্যবস্থা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, “এই ধরনের লোকেরা মানবতার শত্রু। এরা কোনও সময় আইন মেনে চলে না। নার্সদের বিরুদ্ধে তারা যেটা করেছে তা জঘন্য অপরাধ। এর শাস্তি ওদের পেতে হবে।”
এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য তৎপর কেন্দ্র। আর তাই সব রাজ্যগুলিকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।