দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মীরাটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে পুলিশকে বলতে শোনা গিয়েছিল, না পোষালে পাকিস্তানে চলে যাও। সেই বিষয়ে এবার আসরে নামলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি। বললেন, যদি পুলিশ সত্যিই এই কথা বলে থাকে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদসংস্থা এএনআইকে নকভি বলেন, "যদি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য পুলিশ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য পুলিশ করলে তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এই ভিডিও সত্যি হলে তা নিন্দনীয়।" নকভি আরও বলেন, "হিংসার ঘটনায় পুলিশ বা জনতা যেই যুক্ত থাকুক না কেন, সেটা ঠিক নয়, কারণ গণতন্ত্রে এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। পুলিশের উচিত নির্দোষদের রক্ষা করা।"
শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর নয়া নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন উত্তরপ্রদেশের মীরাটের কিছু সংখ্যালঘু মানুষ। মাথায় কালো-নীল ফেট্টিতে ‘নো এনআরসি’, ‘নো সিএএ’ লিখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাঁরা। সেখানেই পৌঁছে যান মীরাটের পুলিশ সুপার অখিলেশ নারায়ণ সিং। একটি ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের বলছেন, “এসব কালো, নীল ফেট্টি বেঁধে কী করছ? এখানে না পোষালে পাকিস্তানে চলে যাও। এ দেশে মন না বসলে রাস্তা খোলা আছে। কেউ তোমাদের আটকাবে না।”

এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও উত্তরপ্রদেশ সরকার ও পুলিশ এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। তবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার।
গত সপ্তাহ থেকে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে যে হিংসা ছড়িয়েছে, তার একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে রাজ্য পুলিশ। তাতে দেখা গেছে, দু’জন পুলিশ অফিসারের উপর গুলি চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের দাবি, মোট ২৮৮ জন পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। উল্টো দিকে পরিসংখ্যান বলছে, সংঘর্ষে মৃতদের মধ্যে সকলেই সাধারণ নাগরিক। তাঁদের মধ্যে এক জন ২০ বছরের এক হবু সিভিল সার্ভিস অফিসার।
যদিও বিরোধী দলের নেতারা সরব হয়েছেন বিক্ষোভ রোখার নামে পুলিশি হামলার। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী টুইট করে বলেছেন, “নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদের জেরে সবচেয়ে বেশী মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই মৃত্যুর তদন্ত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। নির্দোষ পরিবারগুলিকে সাহায্য করতে হবে।” মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াও।