দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলেঙ্গানা থেকে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ-- রাজ্যে রাজ্যে যখন সংক্রামিতদের নিজামুদ্দিন যোগের খবর মিলছিল তখনই 'উধাও' হয়ে গিয়েছিলেন তবলিঘি জামাত প্রধান মৌলানা সাদ কন্ধলভি। পরে অবশ্য গোপন আস্তানা থেকে ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন তিনি কোয়ারেন্টাইনে আছেন। কোথাও চলে যাননি। তাঁর আইনজীবী ফুজাইল আয়ুবি জানিয়েছেন, জামাত প্রধানের করোনা পরীক্ষাও করা হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মৌলানার আইনজীবী বলেছেন, জামাত নিয়ম মেনে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য গিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেই রিপোর্ট আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মৌলানা সাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও জমায়েত করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি-ও। মৌলানার আইনজীবীকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর মক্কেল কি পুলিশের সঙ্গে দেখা করবেন? তার জবাবে আইনজীবী ফুজাইল আয়ুবি জানিয়েছেন, "ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হলে দেখা করার কোনও ব্যাপার থাকে না। সবটাই আইনি প্রক্রিয়ায় হয়।" তিনি আরও বলেন, "আমারমক্কেল দু'টি নোটিস পেয়েছিলেন। দু'টিরই জবাব দেওয়া হয়েছে।"
মঙ্গলবার মৌলানা সাদ একটি আবেদন করেছিলেন জামাত সদস্যদের প্রতি।যাঁদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে তাদের অনেকেই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুতরাং তাঁরা যদি এখন রক্তের প্লাজমা দান করেন তা হলে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীর নিরাময়ে সুবিধা হবে।
অনেকের মতে, এ সব করে মহম্মদ সাদ আসলে সরকারকে বার্তা দিতে চাইছেন যে তিনি সরকার ও সমাজের উপকারের জন্য কত ভাবছেন। এবং তার মাধ্যমে সরকারের রোষানল থেকে রেহাই পেতে চাইছেন।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর নেপথ্যে জামাত জমায়েত একটা বড় কারণ বলে কেজরিওয়াল সরকারই বারবার জানিয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও জানিয়েছে, দেশে মোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে এক তৃতীয়াংশেরই তবলিঘ যোগ রয়েছে।