নেই ঐতিহ্যের ‘বহিখাতা’, এবার ট্যাবলেটেই বাজেট পড়বেন নির্মলা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতিমারীর পরে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে তার দিশা এদিনের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ দেখাতে পারেন কিনা সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আর তার আগেই এবারের বাজেটে হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক বদল। এত
শেষ আপডেট: 1 February 2021 08:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতিমারীর পরে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে তার দিশা এদিনের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ দেখাতে পারেন কিনা সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আর তার আগেই এবারের বাজেটে হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক বদল। এতদিন বাজেট মানেই ছিল ‘বহিখাতা’। একটি স্যুটকেসের মধ্যে করে তা নিয়ে আসতে দেখা যেত অর্থমন্ত্রীদের। কিন্তু এবার ঐতিহ্যের বহিখাতার জায়গায় ট্যাবলেট দেখে বাজেট পড়বেন নির্মলা সীতারমণ। অর্থাৎ ক্যাশলেস অর্থনীতির মতো বাজেটও এবার হতে চলেছে পেপারলেস।
সোমবার সকালেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে দেখা যায় নিজের ক্রিম ও লাল রঙের সিল্কের শাড়ির সঙ্গে মানানসই একটি লাল রঙের ব্যাগের মধ্যে করে ট্যাবলেট নিয়ে নিজের বাসভবন থেকে বেরতে। ব্যাগের বাইরে অশোক স্তম্ভের ছাপ ছিল। নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নির্মলা সীতারমণ। তারপরে সংসদে আসেন তিনি। বাজেটের আগে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হওয়ার কথা। তারপরে বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে বাজেট পেশ।
গতবার বাজেট পেশ করার সময়ই অবশ্য স্যুটকেস থেকে বহিখাতায় ফিরেছিলেন নির্মলা। স্যুটকেস না এনে হাতে করে বহিখাতা নিয়ে ঢোকেন তিনি। তখন তিনি বলেন, ব্রিটিশ অনুকরণ তিনি করতে চাননি। তাছাড়া বহিখাতা বহন করাও অনেক সহজ। কিন্তু পরের বছরই তা বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে চলে গেলেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া মিশনকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই পেপারলেস বাজেটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগেই 'ইউনিয়ন বাজেট মোবাইল অ্যাপলিকেশনের' উদ্বোধন করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব সাংসদরা সহজেই বাজেটের সব তথ্য পেয়ে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, ২০২০ সালে যে মিনি বাজেট পেশ হয়েছিল তাকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটে। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী আর্থিক বছরে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ করার জন্য একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
অবশ্য করোনা অতিমারী শুরু হওয়ার আগেই ভারতের অর্থনীতির হাল খারাপ হচ্ছিল। গত ১১ বছরে সবথেকে নীচে নেমে গিয়েছিল দেশের জিডিপি। তাই সেখান থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলার জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজন। সেটা এদিনের ঘোষণায় থাকে কিনা, সেদিকেই চোখ থাকবে সবার।
গত বছরের তুলনায় এবছর স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর বেশি বরাদ্দ করা হবে বলেই অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে। কারণ একমাত্র তবেই ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআইকে বেশি আকর্ষণ করা যেতে পারে।
সেইসঙ্গে শিল্পপতিদের লক্ষ্য থাকবে যে এই বাজেটে তাদের জন্য ট্যাক্সে কিছু ছাড় দেওয়া হল কিনা। কারণ অতিমারীর প্রভাব প্রতিটি সেক্টরে সমান ভাবে পড়েছে। তার ফলে ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা সবথেকে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন। সেখান থেকে নিজেদের ব্যবসাকে ফের দাঁড় করানোর জন্য ট্যাক্সে ছাড় চাইছেন তাঁরা। সেদিকে সরকার কী নজর দিচ্ছে সেদিকেও সবার নজর থাকবে।