দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দাভিন্দর সিংকে ১৫ দিনের জন্য হেফাজতে নিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিদের সঙ্গে হাতেনাতে পাকড়াও হয়েছিলেন এই অফিসার। দাভিন্দর ছাড়াও আরও চার অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে এনআইএ।
শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কের উপর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তিন হিজবুল জঙ্গি সমেত ধরা পড়েন কাশ্মীর পুলিশের অফিসার দাভিন্দর সিং। বাহাদুর পুলিশকর্মী হিসেবেই সুনাম ছিল তাঁর। সাহসিকতার জন্য পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও। শ্রীনগরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোস্টিং ছিল তাঁর। কাশ্মীর সফরে আসা বিদেশি প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে এইসবের মাঝেই হিজবুল মুজাহিদিনের তিন কুখ্যাত জঙ্গির সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় দাভিন্দরের।
গ্রেফতার হওয়ার পরেই দাভিন্দর সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সামনে আসা আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা যায়, তিন হিজবুল জঙ্গিকে নিজের বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলেন দাভিন্দর। জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে দিয়ে তিন জঙ্গিকে দিল্লি পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। এই যাত্রার সময়ের ধরা পড়েন দাভিন্দর। উদ্ধার হয় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। এবং জানা যায় দাভিন্দরের সঙ্গে হিজবুলের যে তিনজন জঙ্গি ছিল তাদের মধ্যে একজন কুলগামে বাঙালি শ্রমিক হত্যার মূল অভিযুক্ত নাভিদ বাবু। এছাড়াও ইরফান এবং রফি নামের দুই জঙ্গিও লুকিয়ে ছিল দাভিন্দরের বাড়িতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগেও নাভিদ বাবুকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে সাহায্য করেছেন দাভিন্দর। গত বছরই তাকে জম্মু পালাতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। প্রায় দু’দশক আগের সংসদ হামলার সময়ে আফজল গুরুও এই পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ২০০১ সালে সংসদ হামলার পরে অভিযুক্ত আফজল গুরু জেল থেকে তাঁর আইনজীবীকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতে ডিএসপি দাভিন্দরের নাম ছিল। আফজল দাবি করেছিল, সংসদ হামলায় জড়িত থাকা এক জঙ্গি মহম্মদকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য আফজলের ওপর জোর খাটিয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। তখন তিনি বডগামের হুমহামায় দায়িত্বে ছিলেন।