দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসায় প্রাণ গিয়েছিল আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার। ওই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল আম আদমি পার্টি কাউন্সিলর তাহির হুসেনের। একরকম বাধ্য হয়েই তাঁকে সাসপেন্ড করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রায় একমাস পর তাহিরকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে দিল্লির চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পবন সিং রাজওয়াতের এজলাসে তাহিরকে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ, তাহিরের বাড়ির ছাদে জড়ো হয়েছিল প্রচুর লোক। তারপর সেখান থেকেই চলে দেদার পাথরবৃষ্টি। ছোড়া হয় সোডার বোতলও। ওই হামলাতেই গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মার মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যাতে দেখা যায় তাহিরের বাড়ির ছাদ থেকে আক্রমণ করা হচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের।
এদিন শুনানির সময়ে পুলিশি হেফাজতের তীব্র আপত্তি জানান তাহিরের আইনজীবী। আদালতে তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেই তাহিরকে ফাঁসানো হচ্ছে। পাল্টা সরকার পক্ষের আইনজীবী বলেন, তাহির কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটা জানতেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পর বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
গত মাসে ব্যাপক হিংসা দেখেছিল রাজধানী। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই হিংসায় মৃত্যু হয়েছে ৪৪জনের। জখম হয়েছেন ২০০-র বেশি মানুষ। গোটা ঘটনায় দিল্লির পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। একইসঙ্গে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, কয়েকদিন আগে ভোটে জিতে আম আদমি পার্টি রাজনৈতিক ভাবে হিংসা রুখতে কী পদক্ষেপ নিল। এর মধ্যেই নাম জড়ায় তাহির হুসেনের। এই মামলার পরের শুনানি আগামী শনিবার।