দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হাথরাসের ঘটনা নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা। ফের একবার সমালোচনা শুরু হয়েছে যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে। একজন নির্যাতিতা তরুণীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কের মুখে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির এক বিজেপি নেতা রঞ্জিত বাহাদুর শ্রীবাস্তব। অভিযুক্তদের নির্দোষ দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের (পড়ুন নির্যাতিতার মতো) মেয়েদের মৃতদেহ ক্ষেতের মধ্যেই পাওয়া যায়।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যাচ্ছে রঞ্জিতকে। তাঁর দাবি, নির্যাতিতা তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের কারও সম্পর্ক ছিল। তরুণীই নাকি ক্ষেতের মধ্যে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। রঞ্জিত বলেন, “ওই তরুণীই নিশ্চয় যুবককে ক্ষেতের মধ্যে ডেকেছিল, কারণ তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই খবরটা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে গিয়েছে। নিশ্চয় ওই তরুণী ধরা পড়ে গিয়েছিল।”
এখানেই থেমে থাকেননি ওই বিজেপি নেতা। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মেয়েদের মৃতদেহ ক্ষেতেই পাওয়া যায়। রঞ্জিত বলেন, “এই ধরনের মেয়েদের মৃতদেহ কিছু নির্দিষ্ট জায়গাতেই পাওয়া যায়। তাদের দেহ আখের ক্ষেত, ভুট্টা, বাজরার ক্ষেত, নইলে ঝোঁপ, নর্দমা বা জঙ্গলেই পাওয়া যায়। কেন তাদের দেহ কোনও সময় ধান কিংবা গমের ক্ষেতে পাওয়া যায় না?”
https://twitter.com/dnetta/status/1313494264983285766?s=19
নির্যাতিতার মৃত্যুকে অনার কিলিং বলেই উল্লেখ করেছেন ওই বিজেপি নেতা। অর্থাৎ তাঁর অভিযোগ, তরুণীকে যুবকের সঙ্গে ক্ষেতের মধ্যে দেখে ফেলায় তাঁর পরিবারের লোকেরাই তাঁকে মেরেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনও দোষ নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।
রঞ্জিতের দাবি, কেউ দেখেনি ওই তরুণীকে ক্ষেতের মধ্যে টেনে নিয়ে যেতে। তাহলে যতদিন না এই মামলায় সিবিআই চার্জশিট পেশ করছে, ততদিন অভিযুক্ত চারজনকে জামিন দেওয়া উচিত বলেই জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা বলেন, “আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি চারজন যুবক নির্দোষ। যদি তাদের সময়ে ছাড়া না হয় তাহলে তারা মানসিক চাপ পাবে। তাদের এই হারিয়ে যাওয়া সময়টা কে ফিরিয়ে দেবে? সরকার কি তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে?”
বিজেপি নেতার এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা বলেছেন, “উনি কোনও দলেরই নেতা বলার যোগ্য নন। উনি নিজের খারাপ ও নোংরা মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি তাঁকে একটি নোটিস পাঠাব।”
অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক বার বিতর্কিত ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন রঞ্জিত বাহাদুর শ্রীবাস্তব। সীতাপুর, লখনউ ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক জায়গায় মোট ৪৪টি মামলা দায়ের রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।