শেষ আপডেট: 26 February 2020 03:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএএ নিয়ে সংঘর্ষের মাঝেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ি ঘেরাও করল বিক্ষোভকারীরা। তাদের মধ্যে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরাও ছিলেন। দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েই মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘেরাও করা হয় কেজরিওয়ালের বাড়ি। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
কেজরিওয়ালের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল জামিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি ও অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন অফ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ কেজরিওয়ালের বাড়ির কাছে এলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানের ব্যবহার করে পুলিশ।
জামিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটির তরফে বলা হয়েছে, “এখনও পর্যন্ত উকিলদের সঙ্গে আটক হওয়া প্রতিবাদীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ তাদের ছাড়েওনি। জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মারধর করা হয়েছে। সবার ফোন বন্ধ। আমরা ছাত্র-ছাত্রী ও অ্যালুমনিদের সুরক্ষা নিয়ে খুব চিন্তিত।”
কেজরিওয়ালের বাড়ির সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভকারীরা দাবি জানায়, দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শান্তি ফেরানোর আবেদন জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা এও দাবি জানায়, সংঘর্ষের এলাকায় নিজে যান কেজরি। সেখানে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলুন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দিল্লিতে শান্তি ফেরানো তাঁর দায়িত্ব বলেই দাবি করে বিক্ষোভকারীরা।
এই জমায়েত থেকে আরও দাবি করা হয়, ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কেজরিওয়ালের সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা সবাইকে জানানো হোক। যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে দিল্লির মানুষ আম আদমি পার্টিকে ফের ক্ষমতায় এনেছে তার মর্যাদা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধেবেলা নিজের বাড়িতে আপ বিধায়ক ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেজরিওয়াল। সংঘর্ষের ফলে দিল্লির যে সব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কী কী করণীয়, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার রাতেই জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল দিল্লির সীলমপুর এলাকায় পৌঁছন। কী ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব তা নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দিল্লি পুলিশ ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত দু’দিন ধরে রাজধানীর অবস্থা নিয়ে কথা হয় সেই বৈঠকে। বৈঠক শেষে সব রাজনৈতিক দলের কাছে অমিত শাহ আর্জি জানিয়েছেন, দল ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সবাই যাতে এগিয়ে আসেন। এই মুহূর্তে কোনও রকমের উস্কানিমূলক কথা থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।