দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাজার হাজার কৃষক কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। সেই কৃষকদের পক্ষ নিয়ে বৃহস্পতিবার মোদী মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হরসিমরত কউর বাদল।
মন্ত্রিসভায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের মন্ত্রী ছিলেন হরসিমরত। তিনি বিজেপি অন্যতম পুরনো শরিক দল তথা অকালি দলনেতা ও পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলের পুত্রবধূ।
এখন প্রশ্ন মোদী সরকারের কোন নীতি নিয়ে বিরোধিতায় পথে নেমেছেন কৃষকরা?
সংসদে চলতি বাদল অধিবেশনে তিনটি অধ্যাদেশ তথা অর্ডিন্যান্স পাশ করাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ১) কৃষি পণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২) কৃষি পরিষেবা ও কৃষি পণ্যের মূল্যের নিশ্চয়তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং ৩) অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন অধ্যাদেশ।
কেন্দ্রের বক্তব্য, এই তিন অধ্যাদেশ কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করবে। কৃষকরা নিজের এলাকার বাইরে অন্যত্র বা অন্য রাজ্যে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। কোনও বাধা থাকবে না। বর্তমানে চাল, গম সহ বেশ কিছু কৃষিপণ্য চাষিরা নোটিফায়েড এলাকার বাইরে বিক্রি করতে পারেন না। তা ছাড়া নয়া অধ্যাদেশের বলে কৃষকরা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে কৃষি পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন।
কিন্তু বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের বক্তব্য, এই তিন অধ্যাদেশ হল তাদের স্বার্থ বিরোধী। এর ফলে চাষিরা সরকারের থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। সব থেকে ক্ষতি হতে পারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের। বেসরকারি সংস্থার হাতে বিপন্ন হতে পারেন তাঁরা। কারণ উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য থেকে তাঁদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা সাহাব সিংয়ের কথায়, “এই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হলে ভারতে কৃষি ব্যবস্থার সর্বনাশ হয়ে যাবে। কৃষকরা এমনিতেই সংকটে রয়েছেন। রোজ কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।” এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন সাহাব সিং।
শুধু কৃষকরা নন, কমিশন এজেন্ট তথা ফড়েরাও এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে তাঁদের ব্যবসা লাটে উঠবে। ফলে ফড়েদের সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মজুর ও পরিবহণ কর্মী কাজ হারাবেন বলে তাঁদের মত।
হরসিমরত কউরের ইস্তফা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যখন এই তিন অধ্যাদেশ পাশ হয় তখন সেগুলোয় সম্মতি দিয়েছিলেন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী হরসিমরত কউর। বিলের পক্ষে মত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কৃষকদের অসন্তোষ দেখে এখন সুর বদলেছেন হরসিমরত। ঘটনা হল, কংগ্রেস সহ বিরোধীরা কৃষকদের আন্দোলনে হাওয়া দিচ্ছে। পাঞ্জাব কৃষি প্রধান রাজ্য। সেখানে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাতেই হরসিমরত এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবার রাতে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। কৃষকরা সরকার থেকে যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান তা বহাল থাকবে। সরকার তাঁদের কাছ থেকে সেই দামে কৃষি পণ্য কিনবে। তা ছাড়া সরকারের মূল লক্ষ্য হল, চাষীরা যাতে কৃষি পণ্যের আরও ভাল দাম পান। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলে তারা কৃষি পণ্যের বেশি মূল্য পাবেন তাই নয়, কৃষি ক্ষেত্রের আধুনিকীকরণ হবে। উন্নত মানের বীজ ও সার পাবেন তাঁরা। ফলনও বেশি হবে।
কৃষি মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিবের কথায়, আসল বিপদে পড়তে পারেন ফড়ে ও মহাজনরা। তারাই কৃষকদের ক্ষেপাচ্ছে। কারণ চাষিরা সরাসরি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলে তাদের ভূমিকা আর থাকবে না। আবার কৃষকদের অনেকের সমস্যা হল তারা ফড়েদের কাছ থেকে ধার নিয়ে চাষ করেন। তাই অনেকেই ফড়েদের কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সরকার অধ্যাদেশ পাশ করানো ব্যাপারে অনড়। এ ব্যাপারে কৃষকদের সমস্ত ভরসা দিয়ে অধ্যাদেশ পাশ করানো হবে।