দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটের সঙ্গে দেখা করেননি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। মুখে ক্ষমা করে দেওয়ার বার্তা দিলেও সশরীরে সেটা করতে দেখা যাচ্ছিল না কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতাকে। অবশেষে বিকেলে মিলন হল। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কংগ্রেসের বৈঠকে হাত মিলিয়ে শচীন পাইলটকে স্বাগত জানালেন গেহলট। দু’জনকে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা গেল। এক মাসের সংঘাতের পরে অবশেষে এক ছাদের তলায় এল রাজস্থানে কংগ্রেসের দুই শিবির।
আগামী কাল থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে রাজস্থানে। তার আগে নিজেদের কৌশল ঠিক করার জন্যই এদিনের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা গেল পাইলট ও গেহলটকে। ভাবখানা এমন যেন এক মাস ধরে মান-অভিমানের পালা চলছিল তাঁদের মধ্যে। সেই পালা শেষ হয়ে গিয়েছে। শান্তি ফিরেছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পরে শচীন পাইলট যখন বলেছিলেন, তিনি কংগ্রেস ছাড়বেন না, তখন গেহলট বলেছিলেন, ‘ফরগেট অ্যান্ড ফরগিভ’। যা হয়েছে সব ভুলে যান। এদিন তিনি ফের টুইট করে বলেন, ‘ফরগেট অ্যান্ড ফরগিভ’। তাছাড়া গেহলট হিন্দিতে টুইট করে বলেন, “সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালাচ্ছে কংগ্রেস। গত এক মাসে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নানা বিষয়ে মতভেদ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেকথা ভুলে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।”
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই টুইটে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সনিয়া ও রাহুলের নির্দেশ মেনে শচীনের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে নেবেন। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা অত সহজ হবে না। গত একমাস ধরে গেহলট প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীনকে অপদার্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে সমালোচনা করে এসেছেন। বার বার বলেছেন, শচীনকে দেখতে সুন্দর, ভাল কথা বলতে পারেন। এছাড়া তাঁর কোনও গুণ নেই।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অনুগামী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, “বিধায়করা স্বাভাবিক কারণেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁরা যদি অসন্তুষ্ট হন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। গত এক মাস ধরে যা ঘটেছে, তাঁদের যেভাবে হোটেলে থাকতে হয়েছে, তাতে এমন প্রতিক্রিয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তাঁদের বুঝিয়ে বলেছি, কোনও কোনও সময় অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।”
পরে গেহলট বলেন, “কেউ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হবে। এখন দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। আমার পক্ষে ১০০ জনের বেশি বিধায়ক আছেন। কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপি যা করেছিল, রাজস্থানে তা করতে পারেনি। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”
এদিকে এদিন বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া-সহ বিজেপি নেতৃত্ব শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশন নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেন। রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পরে এটাই ছিল বিজেপির পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠক। এদিন সেই বৈঠকের পরে রাজস্থান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক গুলাবচাঁদ কাটারিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার থেকে রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আর তার প্রথম দিনেই আনা হবে অনাস্থা প্রস্তাব। এই বিষয়ে এদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।